
মান্দায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও, অবরুদ্ধ চেয়ারম্যান-সচিব ও গ্রামপুলিশদের উদ্ধার করল পুলিশ
নওগাঁর মান্দায় ইউনিয়ন পরিষদে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে মারধর ও তাঁর আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন গ্রামপুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সচিব মিজানুর রহমান ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্ত গ্রামপুলিশ সদস্যদের চাকরিচ্যুতির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জয় (২৪) উপজেলার সাহাপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার মণ্ডলের ছেলে। তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে বোর্ডঘরের রাস্তা দিয়ে ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জয়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসছিলেন মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সদস্য নাজমুল ও ফিরোজ। মোটরসাইকেলকে সাইড দেওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দুই গ্রামপুলিশ সদস্য তাঁকে গালিগালাজ করে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউনিয়ন পরিষদে যান জয়। সেখানে গিয়ে আগে গালিগালাজ করার কারণ জানতে চান তিনি। এ সময় নাজমুল, মোস্তাফিজুর রহমান, ফিরোজ ও মাইনুরসহ কয়েকজন গ্রামপুলিশ সদস্য তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার দৃশ্য ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা পরিষদ ঘেরাও করে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সচিব মিজানুর রহমান এবং গ্রামপুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরবর্তীতে আহত শিক্ষার্থী জয়কে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন স্থানীয়রা।
এ সময় অভিযুক্ত গ্রামপুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁদের চাকরিচ্যুতির দাবি জানান বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় চেয়ারম্যান, সচিব ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গ্রামপুলিশ সদস্য নাজমুল ও মোস্তাফিজুরকে ইতোমধ্যে পরিষদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। নাজমুলের আচরণ সন্তোষজনক নয়। তাঁর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গালিগালাজের জেরেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
![]()







