
বিষ্ণুপদ ধামে সাংবাদিক সত্যজিৎ দাসের পিতৃ তর্পণ
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার তারাপাশায় অবস্থিত ঐতিহাসিক সনাতন ধর্মীয় তীর্থস্থান শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধামে পিতৃপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে পবিত্র পিতৃ তর্পণ সম্পন্ন করেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সত্যজিৎ দাস।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধর্মীয় বিধি ও শাস্ত্রীয় আচারের মধ্য দিয়ে তিনি এ তর্পণ সম্পন্ন করেন। পুরোহিত শ্রী কিশোর ভট্টাচার্য্যের পৌরোহিত্যে শুদ্ধ বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে তর্পণের মূল আচার পরিচালিত হয়।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী কুশাঙ্গুরীয় ধারণ করে তাম্রপাত্রে জল,গঙ্গাজল,কালো তিল,কুশা ও পুষ্প নিবেদন করে দেব,ঋষি ও পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে অঞ্জলি প্রদান করেন সত্যজিৎ দাস। এ সময় তিনি তাঁর প্রয়াত পিতা সমরজিৎ দাস,পিতামহ শশধর দাস,প্রপিতামহ শশী মোহন দাস,পূর্বপুরুষ শরৎচন্দ্র দাসসহ প্রয়াত দিদিমা,মাসী, পিশি ও অকালপ্রয়াত প্রিয় বন্ধুদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁদের বিদেহী আত্মার শান্তি, সদগতি ও পরম কল্যাণ কামনা করে জল ও তিল নিবেদন করেন তিনি।
পুরোহিত শ্রী কিশোর ভট্টাচার্য্য বলেন,“পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি পবিত্র সময়। শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পিতৃ তর্পণের মাধ্যমে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং তাঁদের আত্মার শান্তি ও সদগতির জন্য প্রার্থনা করি। বিষ্ণুপদ ধামের মতো পবিত্র তীর্থে এ ধরনের আচার পালনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস ও পূর্বপুরুষদের স্মৃতির সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়।”
সাংবাদিক সত্যজিৎ দাস বলেন,“পিতৃ তর্পণ আমার কাছে শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়,এটি আমার প্রয়াত পিতা,পিতামহ,প্রপিতামহসহ পূর্বপুরুষ ও প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি গভীর অনুভূতি। আজ তর্পণের সময় বাবাসহ যাঁরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন,তাঁদের প্রত্যেককে স্মরণ করেছি। তাঁদের আত্মার শান্তি ও সদগতি কামনা করেছি। একই সঙ্গে পৃথিবীর সকল জীবের শান্তি, মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেছি।”
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী,রাজনগরের তারাপাশার শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এখানে ভগবান শ্রী বিষ্ণুর চরণচিহ্ন সংবলিত পবিত্র শিলাখণ্ড রয়েছে বলে ধর্মীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়। লোকশ্রুতি অনুযায়ী,প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগে স্বপ্নাদেশের মাধ্যমে এই পবিত্র স্থানটি আবিষ্কৃত হয়। পরে পাঁচগাঁওয়ের জমিদার সর্বানন্দ দাসের উদ্যোগে এখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা ও নিয়মিত পূজা-অর্চনার ব্যবস্থা করা হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস,পিতৃপক্ষে পবিত্র তীর্থে তর্পণ ও পিণ্ডদানের মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের আত্মার শান্তি ও সদগতির জন্য প্রার্থনা করা হয়। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস ও পূর্বপুরুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকেই পিতৃপক্ষের এই তিথিতে তর্পণ করেন সত্যজিৎ দাস।
তর্পণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পৃথিবীর সকল জীবের শান্তি,মঙ্গল ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পরে ধাম কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
![]()









