- - -

পরিত্যক্ত ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, সংস্কারের অভাবে পানিতে ডোবে হাইস্কুল মাঠ ‎ ‎

‎ডিসি কাপ জয়, তবু বেহাল আশাশুনির ক্রীড়াঙ্গন
‎পরিত্যক্ত ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়, সংস্কারের অভাবে পানিতে ডোবে হাইস্কুল মাঠ

‎জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ সাফল্য ডিসি কাপ-২০২৬ জয় করেছে আশাশুনি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা। তবে এই সাফল্যের বিপরীতে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয় ও উপজেলার প্রধান খেলার মাঠ। পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে থাকা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয় পুনর্নির্মাণ কিংবা সংস্কার এবং ঐতিহ্যবাহী আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও সংশ্লিষ্টরা।
‎জানা গেছে, আশির দশকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উত্তর পাশে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের উত্তর অংশ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে ভবন সংকটের কারণে ১৯৯৫ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেখানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এরপর কিছুদিন উপজেলা খাদ্য অফিস ভবনটির একাংশ ব্যবহার করে।
‎২০২০ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। একই বছরের মে মাসে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নতুন ভবনে চলে যাওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি আরও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ভবনের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেই ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
‎উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, ধারাভাষ্যকার আব্দুল হান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই। বর্তমানে উপজেলা ক্রীড়াঙ্গনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হলে একটি উপযুক্ত কার্যালয় প্রয়োজন। দ্রুত কার্যালয়টি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা জরুরি।
‎উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে উপজেলা পর্যায়ে খেলাধুলার উন্নয়ন ও পরিচালনা এবং তৃণমূল থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আন্তঃইউনিয়ন ও আন্তঃস্কুল-কলেজ পর্যায়ে ফুটবল, কাবাডি, সাঁতারসহ বিভিন্ন ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রীও বিতরণ করা হয়েছে।
‎তিনি আরও বলেন, তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কিশোর-তরুণদের মাদক ও জুয়া থেকে দূরে রাখতে তাদের খেলার মাঠমুখী করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় মাঠগুলো সংস্কার ও খেলার উপযোগী করা অত্যন্ত জরুরি।
‎স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাঠ আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ। সংস্কারের অভাবে বর্ষা মৌসুমে মাঠটি পানিতে ডুবে থাকে। ফলে নিয়মিত খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। মাঠটির সঙ্গে আশাশুনির ক্রীড়া ঐতিহ্য জড়িয়ে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় মাঠটি তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও ব্যবহারযোগ্যতা হারাচ্ছে।
‎বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হাফিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য তারিকুল আওয়াল ছোট বলেন, “আশাশুনি হাইস্কুল মাঠটি সদরের একমাত্র বড় খেলার মাঠ। সংস্কারের অভাবে বর্ষা মৌসুমে এটি পানিতে ডুবে থাকে। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করে মাঠমুখী করতে হলে মাঠটি এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পুরোনো কার্যালয় দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।”
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, “সম্প্রতি ডিসি কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আশাশুনি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা নতুন করে গতি ফিরে পেয়েছে। আশাশুনি হাইস্কুল মাঠের গৌরবগাথা আমি শুনেছি। মাঠটি সংস্কার করে শিশু-কিশোরদের মিলনমেলায় পরিণত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করব।”
‎তিনি আরও বলেন, সরকারের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। নতুন প্রতিভা অন্বেষণের পাশাপাশি আশাশুনিতে জন্ম নেওয়া জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটার সৌম্য সরকার এবং জাতীয় পর্যায়ের উশু ও কাবাডি খেলোয়াড় কচি রানী মণ্ডলকে সঙ্গে নিয়ে আশাশুনির ক্রীড়াঙ্গনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হবে।
‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ডিসি কাপ জয়ের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে আশাশুনির ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দ্রুত ক্রীড়া সংস্থার নিজস্ব কার্যালয় পুনর্নির্মাণ এবং হাইস্কুল মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি মাদক ও জুয়া থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa