- - -

নাহারের অর্থায়নে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আশ্রয়হীন ২৮ পরিবারকে নতুন ঘর দিল ছওয়াব

img 20261105 wa0003
Print News

নাহারের অর্থায়নে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আশ্রয়হীন ২৮ পরিবারকে নতুন ঘর দিল ছওয়াব

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় বসতবাড়ি হারানো ২৮ অসহায় পরিবারকে নতুন ঘর দিয়েছে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়ন সংস্থা ছওয়াব (SAWAB)। দাতা সংস্থা নাহারের (NAHAR) অর্থায়নে নির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা ঘরগুলো বুধবার (৪ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চলতি বছরের জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যায় বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে বহু পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। বন্যার পরপরই ছওয়াব জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ২৮টি ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছওয়াবের চেয়ারম্যান এস এম রাসেদুজ্জামান। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হকসহ তাঁর টিম।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি, উপকারভোগী পরিবার এবং ছওয়াবের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ঘর হস্তান্তর শেষে ছওয়াব ও ইসলামিক রিলিফের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁদের মধ্যে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সভায় উপকারভোগীরা প্রকল্পের সুবিধা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা ছওয়াবের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও দাতা সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ঘর পাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যরা জানান, বন্যার পর প্রায় তিন থেকে চার মাস তাঁরা ঘরহীন অবস্থায় কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। নতুন ঘর পেয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।

এ সময় উপকারভোগীরা স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে অটোরিকশা, মুদি দোকান ও গবাদিপশু প্রদানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। পাশাপাশি নিরাপদ পানির জন্য এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের অনুরোধ করেন।

ছওয়াবের চেয়ারম্যান এস এম রাসেদুজ্জামান বলেন, মানবতার সেবায় ও মানুষের কল্যাণে ছওয়াবের পথচলা অব্যাহত থাকবে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নে সংস্থাটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন শুধু ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নিরাপদ আবাসন, কর্মসংস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই প্রকৃত লক্ষ্য। নাহারের সহযোগিতায় নির্মিত ২৮টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলে প্রত্যাশা করছে ছওয়াব।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa