- - -

সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন : এক আপোষহীন কলমসৈনিকের জীবনপথ

সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন : এক আপোষহীন কলমসৈনিকের জীবনপথ

-ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, গবেষণা ও সামাজিক আন্দোলনের অঙ্গনে এক পরিচিত নাম মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, সংগঠক এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক। সাহসী ও আপোষহীন লেখনী, তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ এবং সমাজসচেতন অবস্থানের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাঠকসমাজে বিশেষভাবে পরিচিত। মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জন্মগ্রহণ করেন ১০ মে ১৯৬৫ সালে, চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম চরণদ্বীপ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী নজর মোহাম্মদ বাড়িতে, কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে। শৈশব থেকেই বইপাঠ ও জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। সেই অনুরাগই পরবর্তীতে তাঁকে লেখালেখি ও গবেষণার জগতে নিয়ে আসে।
লেখালেখি ও সাংবাদিকতার শুরু তিনি ১৯৮৮ সালে শখের বশে লেখালেখি শুরু করেন এবং নব্বই দশক থেকে পুরোদমে লেখালেখিতে যুক্ত হন। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে সমাজনীতি, ইতিহাস, রাজনীতি, উন্নয়ন এবং জনজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখে আসছেন। একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে তিনি বর্তমানে জাতীয় দৈনিক ভোরের আওয়াজ ও আন্তর্জাতিক মানের ইংরেজি দৈনিক The Daily Banner–এর যুগ্ম সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমসাময়িক সমস্যা, ইতিহাস ও তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণধর্মী কলাম লিখে আসছেন। সাহিত্যকর্ম ও গ্রন্থসম্ভার
মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের লেখালেখির মূল শক্তি হচ্ছে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সমাজসচেতন দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘বাঁকা কথা’ (২০০৮) প্রকাশের পর থেকেই তিনি পাঠকমহলে আলোচিত হন। এরপর ধারাবাহিক ভাবে তিনি গবেষণা, প্রবন্ধ, সমাজচিত্র ও ইতিহাসভিত্তিক বহু গ্রন্থ রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে— বাঁকা কথা, টক টক কথা,নারী কথা,
সমকথা,কথার কথা,কথার মতো কথা,চোর কথা
ঠাট্টা কথা,বাংলাদেশে নির্বাচন ও নির্বাচনী তথ্য-উপাত্ত
জানা অজানা কথা,সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কথা
পর্যটন শিল্পে বাংলাদেশ,তাহাদের কথা,বঙ্গবন্ধু কথা
কর্ণফুলী কথা,জীবন কথা,শোক কথা,মেঘের জল
নির্মম নিয়তি,আদিবাসী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক
সর্বনাশা আগস্ট ও বঙ্গবন্ধু,রোহিঙ্গাদের ইতিকথা
সমকালীন কথা,অবশেষে,মনের কথা,চট্টগ্রামের ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা,কথা সমগ্র (১ম খণ্ড), তার গবেষণাধর্মী গ্রন্থ “বাংলাদেশে নির্বাচন ও নির্বাচনী তথ্য-উপাত্ত” চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে রেফারেন্স বই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ লাইব্রেরিতেও সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া ‘তাহাদের কথা’ গ্রন্থে তিনি যৌনকর্মীদের হাজার বছরের ইতিহাস তুলে ধরে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছেন।,আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অংশগ্রহণ,মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাহিত্য ও মানবাধিকার সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি PEN International–এর সদস্য এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব লেখক সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে তিনি নোবেলজয়ী সাহিত্যিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন—Wole Soyinka,J. M. G. Le Clézio
John Ralston Saul,Ko Un,তিনি রাশিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, থাইল্যান্ড, কাতার, দুবাই, চীন, কোরিয়া সহ বিশ্বের প্রায় ২০টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন।
টেলিভিশন উপস্থাপনা,মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন একজন জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক। তিনি বাংলা টিভি–তে
চট্টগ্রাম সংলাপ,সচিত্র চট্টগ্রাম,কিছু কথা কিছু গান
কথার কথা,নামক জনপ্রিয় অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন।
এছাড়া এটিএন বাংলা, সিসিএফ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি হাজারের বেশি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন। সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে তিনি মহাসচিব চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি মহাসচিব বাংলাদেশ বন্ধু পরিষদ,সদস্য PEN International সদস্য চট্টগ্রাম একাডেমি বিভাগীয় সমন্বয়কারী বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল এছাড়া তিনি সাপ্তাহিক সময়ের আলো পত্রিকার প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক এবং সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পুরস্কার ও সম্মাননা,তার সাহিত্য ও গবেষণামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বিভিন্ন সম্মাননা অর্জন করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ওশান সিটি সাহিত্য পুরস্কার (২০০৯) আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতি পদক (২০১০) মহাকবি নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্য পুরস্কার (২০১১) বোয়ালখালী প্রেসক্লাব সম্মাননা সংগ্রামী জীবন ও দৃষ্টিভঙ্গি,১৯৮৭ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও গণআন্দোলনের সাথে যুক্ত রয়েছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সংস্কারের আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার লেখালেখির মূল লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং ইতিহাসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন একজন নিরলস লেখক, সাহসী সাংবাদিক এবং সমাজ সচেতন সংগঠক। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কলমকে হাতিয়ার করে সমাজ, ইতিহাস ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলে চলেছেন। কলমের এই নির্ভীক যোদ্ধা আগামী দিনেও তার লেখালেখি, সাংবাদিকতা ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখবেন—এমন প্রত্যাশাই সকলের।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn

শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ ​চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থেকে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। এসব অভিযানে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।​বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই দুটি অভিযান পরিচালিত হয়। ​প্রথম অভিযান (চকপাড়া বিওপি): সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল ০৬:৫০ মিনিটে চকপাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের নামোচকপাড়া গ্রামে (সীমান্ত পিলার ১৮৩/৩-এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে) অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে গেলেও মালিকবিহীন ১টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়।​দ্বিতীয় অভিযান (আজমতপুর বিওপি): একই দিন সকাল ০৮:৫০ মিনিটে আজমতপুর বিওপির আরেকটি বিশেষ টহল দল শাহবাজপুর ইউনিয়নের উপচকপাড়া গ্রামস্থ পাকা রাস্তায় (সীমান্ত পিলার ১৮২/২-এস হতে আনুমানিক ৮০০ গজ অভ্যন্তরে) অভিযান চালায়। এই অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়। ​উভয় অভিযানে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেলের আনুমানিক বাজার মূল্য ১,৪০,০০০ (এক লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা। জব্দকৃত মালামালের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি বলেন, “বিজিবি দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার চোরাচালান রোধে বিজিবি’র এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Su Mo Tu We Th Fr Sa