- - -

সরোজিনী নাইডুর ১৪৮ তম জন্ম দিবস ও জাতীয় নারী দিবস পালিত

Print News

সরোজিনী নাইডুর ১৪৮ তম জন্ম দিবস ও জাতীয় নারী দিবস পালিত

 

আজ ১৩ ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, ঠিক দুপুর দুটোই, কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের সংযোগস্থলে, বিদ্যাসাগর মূর্তির সামনে, প্রমোদ পান্ডের উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী শ্রীমতি শ্রাবন্তী সিংহ র আহবানে, সকল মহিলাদের একত্রিত করে বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্য দানের মধ্য দিয়ে, সরোজিনী নাইডুর ১৫৮ তম জন্মদিবস ও জাতীয় নারী দিবস পালিত হলো। এই জাতীয় নারী দিবস পালনের সাথে সাথে মহিলারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে প্রতিজ্ঞা করলেন, নারীদের ন্যায় অধিকার ছিনিয়ে নিতে।

তাহারা বলেন একদিকে যেমন নারীদের সম্মান দিতে হবে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান সরকারের সময় বিভিন্ন শিশু নারী কল্যাণ প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দের অর্থ খরচ না করার প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে আমরা আজ প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তাহারা সরাসরি বলেন, মমতা ব্যানার্জির সরকার শুধু ভাতার অর্থ বাড়িয়ে জনকল্যাণের পরিবর্তে, জনমোহিনী রূপে আবির্ভূত হতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, কিন্তু এতে কোন দীর্ঘমেয়াদী লাভ আসে না,
তাহারা জানান লক্ষ্মীর ভান্ডার কন্যাশ্রী রূপশ্রীতে বাজিত বরাদ্দের বেশি অর্থ দেয়া হয় অতিরিক্ত বাজেট করে , শিক্ষার ক্ষেত্রেও যেমন মিড ডে মিল, গ্রামীণ পানীয় জলের প্রবন্ধন, সংখ্যালঘু মহিলাদের উন্নয়ন, স্কলারশিপ এর অর্থ, জঙ্গলমহলে আবাসিক হোস্টেল এইগুলোর কোন কিছুতেই বরাদ্দের ১০% থেকে ২০% এর বেশি খরচ করেন না। পশ্চিমবঙ্গে ৭২% পার্সেন্ট মহিলা পুষ্টির অভাবে রক্তাল্পাতা স্বীকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রূপশ্রী ও কন্যাশ্রী দুটি প্রকল্প চালু করলেও সাফল্য পাইনি, আট হাজার স্কুল বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে বাল্যবিবাহের হার ভারতের সবচাইতে বেশি। তার ফলে বাংলার মেয়েরা বাংলার মহিলা মুখ্যমন্ত্রী আমলে বিরাট বঞ্চনার শিকার, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা হয়েও মহিলাদের সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে বিফল, সারা বাংলায় ঘটে চলেছে নারী নির্যাতন, নারীরা সুরক্ষিত নয়,‌ আই শিশুদের পরিবারও চিন্তিত। শিশুদের স্কুলে পাঠাতে। নারী গঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির হার পশ্চিমবঙ্গে মাত্র 3.7%। মুখ্যমন্ত্রী সহ পূর্ব প্রশাসন নারী গঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীদের পক্ষে দাঁড়ান এবং ফরেনসিক রিপোর্ট ভুল করিয়ে অপরাধীদের ছেড়ে দিতে জোর যার করেন। এমনকি অপরাধীদের সঠিক শাস্তি না দিয়ে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন। সঠিক অপরাধী চোখের সামনে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। তাই আজ জাতীয় নারী দিবসে আমরা বদ্ধপরিকর হয়েছি।, এবং প্রতিজ্ঞা করছি, আর নয় নারী নির্যাতন, যেখানেই অন্যায়, সেখানেই নারীরা রুখে দাঁড়াবে।

পশ্চিমবঙ্গ মহিলা কংগ্রেসের সদস্যরা, বিদ্যাসাগরের মূর্তিতে মাল্যদান করে, প্রতিবাদ জানাতে জানাতে মিছিল করে গোটা কলেজ স্কোয়ার ঘুরে বিদ্যাসাগরের মূর্তি সামনে শেষ করেন।

তাহারা আরো বলেন, সরোজিনী নাইডু শুধু লেখিকিকায় ছিলেন না, ব্রিটিশের উপর চোখ রেখে যেভাবে প্রশ্ন রেখেছিলেন, এবং লেখাকে থামিয়ে রাখেননি, স্বাধীনতায় যে গুরুতর ভূমিকা অর্জন করেছিলেন, আজ তাহার পদ অনুসরণ করে আমরা রুখে দাঁড়াবো তাহার পথে চলবো। এবার থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার যাবে না, এমনকি কোন সিদ্ধান্ত মহিলাদের উপর চাপিয়ে দেয়াও যাবে না, মহিলাদের প্রশ্ন করার অধিকার দিতে হবে। আর মহিলাদের কণ্ঠ রোধ করে রাখা যাবে না। মহিলাদের সমান অধিকার দিতে হবে, শুধু ভাতা দিয়ে চুপ রাখা যাবেনা, এবার থেকে মহিলারা যাতে স্বনির্ভর হতে পারে এবং দোষীরা যাতে সঠিক বিচার পায় আর জন্য আমাদের লড়তে হবে, নিজেদের আদায় করে নিতে হবে সমস্ত ন্যায্য অধিকার। তাই আজকের জাতীয় নারী দিবস থেকে সকলকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে যেখানেই অন্যায় সেখানেই সঙ্গবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতে ও রুখে দাঁড়াতে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa