
প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শ্রদ্ধা,ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানালো বৃটেন কমিউনিটি,বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সহ যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের শোক প্রকাশ ;
“মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়, কিন্তু রেখে যায় তার কর্ম, আদর্শ ও অসংখ্য স্মৃতি। মানুষ মরণশীল—আজ হোক কিংবা কাল, প্রত্যেককেই একদিন মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু কিছু মানুষের জীবন ও কর্ম এমন গভীর ছাপ রেখে যায়, যা তাঁদের মৃত্যুর পরও মানুষের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক,যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি ও সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক,প্রবীণ রাজনীতিবিদ,ও সমাজসেবক শ্রদ্ধাভাজন অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শ্রদ্ধা,ভালোবাসা ও অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় জানালো বৃটেন বাংলাদেশ কমিউনিটি।
দীর্ঘ ৫ যুগের বেশী সময় ধরে অধ্যাপক আবুল হাশেম যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে রাজনৈতিক
ও সামাজিক ভাবে কাজ করে আসছিলেন, যার ফলে কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সাথে তার একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে পুরো মৌলভীবাজার জুড়েই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২৪ শে অক্টোবর শনিবার সকাল থেকেই ঘুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে অধ্যাপক আবুল হাশেমকে শেষ শ্রদ্ধা ও শোক জানাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব সহ বৃটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সর্বস্তরের জনতার উপস্থিতিতে এক শোকাবহ ও আবেগঘন পরিবেশে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মরহুমের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন ব্রিকলেন সেন্ট্রাল মসজিদের ঈমাম ও খতীব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম। পরে লন্ডনের এটারনেল গার্ডেনস
কবরস্থানে তাঁর সমাধিত করা হয়।
প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাশেমের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মরহুমের জীবন ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত আবুল হাশেম ছাত্রজীবন থেকেই যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাঙালি সমাজকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সংগঠিত করতে এবং দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দীর্ঘদিন নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্যে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এবং যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারালেন এবং আমি হারালাম একজন অভিভাবকতুল্য শুভাকাঙ্ক্ষীকে।
প্রয়াত আবুল হাশেম মুক্তিযুদ্ধকালে প্রবাসে জনমত গঠনে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও দক্ষ সংগঠকের অভাব পূরণ হবার নয়, দেশের বর্তমান সংকটকালে তাঁকে অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। যুক্তরাজ্যের একজন প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে দেশ ও দলের জন্য অধ্যাপক আবুল হাশেমের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের অবদানকে তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
এদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক মেয়র আনোয়ার উজ্জামান চৌধুরী, সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শামসুদ্দিন খাঁন,বর্তমান সহ সভাপতি হরমুজ আলী, সহ সভাপতি শাহ আজিজুর রহমান, সহ সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মাষ্টার, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ চৌধুরী,
ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ একযুক্ত শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন সহ মহাণ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেনো উনাকে জান্নাতবাসী করেন এই দোয়া করার জন্য দেশে বিদেশের সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন।
এই সংকটকালীন সময়ে তাঁর মতো গুণী ও সুহৃদ মানুষের চলে যাওয়ায় আমরা মর্মাহত। তিনি ছিলেন একজন ত্যাগী, অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ, বিনয়ী, শিক্ষিত ও আদর্শবান রাজনৈতিক সংগঠক। দুঃসময়ে তিনি শক্ত হাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন।
ত্যাগ, সংগ্রাম আর ভালোবাসায় তিনি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ ওয়েলস শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক সহ অন্যান্য শাখা কমিটির নেতৃবৃন্দ একযুক্ত শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন সহ মরহুম এর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বলেন, প্রবাসে স্বাধীনতার সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয়, সদাহাস্যোজ্জ্বল অধ্যাপক আবুল হাসেম ভাইয়ের মৃত্যুতে আমরা একজন অভিজ্ঞ অভিভাবককে হারালাম। তাঁর মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ ও প্রাণবন্ত মানুষের প্রস্থানে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো, তা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।
এছাড়া ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগ এর সভাপতি ফখরুল ইসলাম মধু, সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমেদ
খাঁন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ খাঁন,
যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগ ওয়েলস শাখার সভাপতি ভিপি সেলিম আহমেদ ও সাধারন সম্পাদক মফিকুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতি তামিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক নিহাল হাসান সজিব ভূইয়া, ও সিনিয়র সহ সভাপতি এম আক্তার উজ্জামান খাঁন জাকির, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগ ওয়েলস শাখার সভাপতি মোহাম্মদ বদরুল হক মনসুর ও সাধারন সম্পাদক শাহজাহান তালুকদার শাওন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ
শ্রদ্ধাভাজন অধ্যাপক আবুল হাশেম ভাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাবহ পরিবারবর্গ এর প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেছেন আমাদের চোখে তিনি বিনয়ী , নিপাট পরিপাটি, অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন মানুষ।মহাণ আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন এই দোয়া করার জন্য সবার প্রতি বিনীতভাবে অনুরুধ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার, গালিবপুর ইউনিয়নের চানহাটি গ্রামের কৃতিময় পুরুষ অধ্যাপক আবুল হাশেম চিকিৎসাধীন অবস্থায় লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে গত ২৩ শে অক্টোবর শুক্রবার লন্ডন সময় রাত ১২: ১০ মিনিটের সময় মৃত্যুবরণ করেছেন।( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৮ বছর। মৃত্যুকালে স্ত্রী ও ২ মেয়ে নাতি নাতনী সহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য বন্ধু-
আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী-সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সভাপতি, পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদান ছিলো অনন্য। তিনি ছিলেন একজন ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ ও আদর্শবান রাজনৈতিক সংগঠক।
![]()









