
কালুরঘাট সেতু: ভিত্তিপ্রস্তরের আড়ালে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি—ড. ইউনুসের দায়িত্ব ও চট্টগ্রামের প্রত্যাশা-
মো.কামাল উদ্দিন
কালুরঘাট সড়ক-কাম-রেল সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের বহু দশকের আশা, স্বপ্ন এবং সংগ্রামের প্রতীক। কর্ণফুলী নদীর এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী লোহার সেতুটি প্রতিদিন হাজারো মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে। শিশু, নারী, বয়স্ক—সবাই এই ঝুঁকির মুখোমুখি। সেতু ছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অসম্ভব। একসময় চট্টগ্রামবাসী বিশ্বাস করেছিল— Muhammad Yunus অন্তত কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করবেন। তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এবং আমরা মনে করেছিলাম এটি হবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রথম দৃশ্যমান ধাপ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর কোনও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। মাঠে নির্মাণকাজ দেখা যায়নি, নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা হয়নি, এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়নি। চট্টগ্রামবাসীর হতাশা অগণিত। বহু বছর ধরে মানুষ নিরাপদ ও আধুনিক সেতুর জন্য অপেক্ষা করেছে। প্রতীকী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কেবল উদ্বাস্তু প্রতিশ্রুতির চিহ্ন হয়ে থাকলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। আমরা ব্যক্তি বিদ্বেষে লিখছি না; বরং নেতৃত্বের দায়শীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি। দায়িত্বের ওপর জনগণের আস্থা রাখতে হলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন অবশ্যক। ড. ইউনুসের সময়কাল চট্টগ্রামের জন্য একটি সম্ভাবনার অধ্যায় হয়ে থাকল, কিন্তু বাস্তব নির্মাণের নয়। তিনি চট্টগ্রামের মানুষের বহু আশা পূরণে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেননি। বরং প্রকল্পের বাস্তবায়ন পিছিয়ে রাখা, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অমূর্ত রাখা—এই বাস্তবতা চট্টগ্রামের মানুষের মনে দাগ কেটে গেছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আশা করি বর্তমান সরকার—Tarique Rahman নেতৃত্বে—এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেবে। আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি করি—অবিলম্বে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাত্রা পর্যাপ্ত নয়। চট্টগ্রামবাসী চাই বাস্তব অগ্রগতি। পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও বাজেট ঘোষণা
প্রকল্প সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং ধাপে ধাপে অগ্রগতি জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। প্রকল্পের অর্থায়ন, টেন্ডার, নকশা ও নির্মাণের ধাপসমূহ দ্রুত সমাধান কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা রাজনৈতিক টানাপোড়েন যেন প্রকল্পের পথে বাধা না হয়।
চট্টগ্রামবাসীর প্রত্যাশা ও মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করা
স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত অবশ্যই বাস্তবায়নের অংশ হতে হবে।২০২৮ সালের মধ্যে সেতু চালুর লক্ষ্য নিশ্চিত করা
এটি শুধু অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির সেতুবন্ধন। চট্টগ্রামবাসী ইতিমধ্যেই বহু বছর আন্দোলন, মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর অভিযান চালিয়ে এসেছে। আমাদের অভিজ্ঞতা বলে—প্রতিশ্রুতি যদি বাস্তবায়িত না হয়, তবে তা মানুষের মনে অবিশ্বাস ও হতাশার সৃষ্টি করে। ইতিহাস শুধু প্রতিশ্রুতিকে নয়, বাস্তব কাজকে স্মরণ রাখে।
আমরা বিশ্বাস করি—বর্তমান সরকার যদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে, তবে এটি হবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের বহু বছরের সংগ্রামের বাস্তব সাফল্য। ড. ইউনুসের সময়ে যা সম্ভব হয়নি, তা এখন বাস্তব হতে পারে। আমাদের প্রত্যাশা একটাই—ভিত্তিপ্রস্তর নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি; ঘোষণাই নয়, বাস্তব কাজ। চট্টগ্রামবাসী দেখবে, যাচাই করবে, অপেক্ষা করবে—কারা সত্যিই জনগণের স্বার্থে কাজ করেন। আমাদের সংগ্রাম শুধু আজকের জন্য নয়; এটি আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক চট্টগ্রাম গঠনের ভিত্তি।
![]()









