- - -

বুড়িচংয়ে শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমে নি দাম, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

img 20261030 wa0069
Print News

বুড়িচংয়ে শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমে নি দাম, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

 

বুড়িচংয়ে শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম সাধারণ মানুষের
ক্ষয়- ক্ষমতার বাইরে, পণ্যের দাম বাড়ার যে পুরোনো অভিযোগ, শুরুতেই তার প্রতিফলন দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন বাজারে। কিছু  অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

কাঁচাবাজার থেকে মুদি, পোশাক, মুরগী থেকে গোস্ত প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের উর্দ্ধগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচে পড়েছে
বাড়তি চাপ।

আজ শুক্রবার (৩০অক্টোবর) সকাল থেকেই কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দামের চিত্র দেখে হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।

উপজেলার  কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, লম্বা বেগুন ১২০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো ৭০–৮০ টাকা, সিম ৬০–৮০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, ক্ষিরা ৭০ টাকা,পুঁই শাক ৪০-৫০ টাকা কেজি,করলা ১০০ টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ২০০- ২৬০ টাকা কেজি,  গাজর ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেঁয়াজ ৫০–৬০ টাকা, লাউ ৭০-৮০ টাকা, কাঁচা কলা ৬০ টাকা হালি ফুলকপি ৬০–৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০–৬০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট।

কেনাকাটা করতে আসা সাগর মিয়া নামে এক ক্রেতা বলেন, শীতকালীন আগাম সবজি সরবরাহ থাকলেও,  চাহিদা বেধে, নানান অজুহাতে  কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগে দাম বাড়িয়ে দেন। ফলে শীতের শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন খরচের তালিকায় কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা শীতের মৌসুম শুরু হওয়া ও সরবরাহ বেশী থাকার পরেও নানাবিধ অজুহাতে পকেট কাটছে সাধারণ  ভোক্তাদের । তাদের দাবি, পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা গেলে লোকসান গুনতে হবে। এক বিক্রেতা বলেন, শীতকালীন সবজি এখন বাজারে আসছে। আড়তে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করছি। আরেকজনের ভাষ্য, শীত শুরুর আগে থেকেই চাহিদা বেড়েছে। পাইকারি দামে চাপ পড়েছে। আমরা তো নিজেরা দাম ঠিক করি না, আড়তের দামের ওপর নির্ভর করতে হয়।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মোঃ সফিকুর বলেন, ভোক্তারা সব সময় এক ধরনের ভোগান্তির স্বীকার হয়। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নানা অজুহাতে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্যান্য দেশে মৌসুমবেদে অনেক পণ্যের দাম কমে বা স্থিতিশীল থাকে। আমাদের দেশে ঠিক উল্টোটা দেখা যায়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফার হিসেবে নেন। সরকারি তদারকি বাড়লে এই প্রবণতা কমে আসতো।

অনেকেই অভিযোগ করেন, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় সুযোগ সন্ধানীরা সহজেই দাম বাড়াতে পারেন। ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে না পেরে বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে কিনতে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীতের আগমনীকে  কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মুনাফা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নতুন নয়। নিয়মিত বাজার তদারকি, পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শীতের শুরুতেই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। সামনে আসছে রোজা। রোজার পুরো মাস—দাম স্থিতিশীল রাখা, কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা সবার। ক্রেতাদের আশা, কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগে অন্তত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরে আনতে পারে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa