
কাউখালীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা ও দানোত্তম কঠিন চীবর দান ২০২৬ উৎযাপনের আয়োজন
কাউখালী উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও দানোত্তম কঠিন চীবর দান-২০২৬ উৎযাপনের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার লেবারপাড়া শান্তিপূর্ণ বৌদ্ধ বিহারে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে লেবারপাড়া শান্তিপূর্ণ বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটি ও সমবেত পুণ্যার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠানে কাউখালীর ঘিলাছড়ি পঞ্চকল্যাণ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ, কাউখালী উপজেলা শাখার সভাপতি সুমনা জ্যোতি মহাথের সভাপতিত্ব করেন। এসময় তিনি বলেন- শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও দানোত্তম কঠিন চীবর দান উপলক্ষে এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ আয়োজনের মাধ্যমে বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়। আমরা চাই, সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ থেকে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখুক। অনুষ্ঠানটি সফল করতে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মানিত সদস্য জনাব পাইচি মং মারমা।এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, কাউখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অর্জুন মনি চাকমা সহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা, পূজা-অর্চনা ও দান-দক্ষিণার মধ্য দিয়ে পুণ্য অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পাইছি মং মারমা বলেন, কাউখালীর সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (মীর হেলাল), রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান দীপেন তালুকদার (দীপু) সহ আমরা যারা দায়িত্বে রয়েছি, সবাই মিলে এ এলাকার উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করব। আগামী অর্থ বছরের শুরু থেকেই এলাকার রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো কাউখালীর প্রতিটি এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা এবং শিক্ষা, যোগাযোগ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুফল মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়া। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও সম্প্রীতিপূর্ণ কাউখালী গড়ে তোলাই আমাদের প্রত্যাশা।কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব বলেন- ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আমাদের সমাজের ঐতিহ্য। কাউখালীতে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও দানোত্তম কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন। এ ধরনের অনুষ্ঠান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে। আমরা চাই কাউখালীতে সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করবেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে।
![]()









