- - -

নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ

img 20261016 wa0285
Print News

নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ

 

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর মীম (১৯) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য ক্লিনিকটির চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করছেন নিহতের স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগ, স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজার করানো হয়। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারে ত্রুটির কারণেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রংপুরের ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীমের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) তাঁকে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোররাতে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়।

ক্লিনিকের রেজিস্টারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, মীমের অস্ত্রোপচার করেন প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রুমা। অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শবনম খাতুন। তাঁদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক নুরুল ইসলাম (ডিএমএফ)।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর মীমের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ওই রাত আড়াইটার দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মৃতের পরিবারের দাবি, রংপুরে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সময় তাঁদের জানানো হয়, আগের অস্ত্রোপচারে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল-সংক্রান্ত সমস্যা ছিল। এর ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বেড়ে মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এ ছাড়া গর্ভাশয়ে ময়লা ও গর্ভফুলের অংশ রেখে দেওয়া এবং সেলাইয়ে ত্রুটি থাকার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মীমের স্বামী আল মামুন বাবু বলেন, “ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি বলে মনে করি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। অ্যাপোলো ক্লিনিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ আলম ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলামিন জানান, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার দেখভালে রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

গোলাম রসুল রাজা বলেন, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা বলেন, অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিত। প্রসূতিকে ভর্তি করানোর আগে ক্লিনিকের সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করাও জরুরি।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa