
নওগাঁর মান্দায় উত্তরা ডিগ্রি কলেজে পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব ফিরে পেলেন এ্যাড.মিজানুর রহমান
নওগাঁর মান্দায় “উত্তরা ডিগ্রি কলেজ” এর সভাপতি হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নওগাঁ জজ কোর্টের এপিপি (অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর) এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে কলেজে গিয়ে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এ সময় কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হাইকোর্টের আদেশের পর তিনি পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগেও এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান কলেজটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে মান্দা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এমদাদুল হককে এক মাসের জন্য এডহক কমিটির সভাপতি করা হয়। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান হাইকোর্টে রিট করেন।
তার রিটের পর গত ২৩ আগস্ট হাইকোর্টের আদেশে তাকে পুনরায় সভাপতি পদে বহাল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এক মাসের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এমদাদুল হকের কমিটির কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানকে ছয় মাসের জন্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর কলেজে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আলম বলেন, ‘এ প্রতিষ্ঠানে আটটি বিষয়ে অনার্স পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। এটি মান্দার অন্যতম বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনেও প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ ভালো করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা নিরসনের সুযোগ রয়েছে।’
এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আগের সময়ে অনার্স শিক্ষকদের জাতীয়করণের কথা বলে অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন ২০ লাখ টাকার চুক্তি করেন এবং পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া এইচএসসির ফরম পূরণের জন্য নেওয়া ৮৮ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করা হয়েছে।’
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ওই বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ‘এক মাসের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটির সময়ে সরকারি বরাদ্দের চারটি আইপিএস ব্যাটারি, চারটি টিনশেড ঘরের পুরোনো টিন এবং গোডাউনে থাকা পুরোনো মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। এসব বিক্রির অর্থের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।’
সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে সহকারী অধ্যাপক আলম হোসেন জোয়ার্দ্দারকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
এদিকে একই দিন বিকেলে কলেজের হলরুমে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম দুলালের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন পুনরায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সদস্য আসাদুজ্জামান এবং সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন জোয়ার্দ্দার।
এ সময় নওগাঁ জজ কোর্টের এপিপি ও অত্র প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট আবু হায়াত রানা, উপজেলা যুবদলের নেতা সিদ্দিক হোসেন, ভারশোঁ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যুবদল নেতা গোলাম রাব্বানীসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষকদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সভা চলাকালে অধ্যক্ষ ও লাইব্রেরিয়ান উপস্থিত না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ভারশোঁ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আল্লাহ ইজ্জতের মালিক। উনি যাকে ইচ্ছে সম্মানীত করতে পারেন আবার কাউকে লাঞ্চিত করতে পারেন। সুতরাং আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে তিনি তার দায়িত্ব পূনরায় ফেরত পেয়েছেন। এজন্য আমরা সবাই আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা আশা করবো তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে এ প্রতিষ্ঠানে আসতে হবে। সবাই যদি শুধু নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সদিচ্ছা থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব। কলেজটি যেন সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
সহকারী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন জোয়ার্দ্দার বলেন, ‘কলেজটির অবকাঠামোগত উন্নয়নে এমপি মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
সভাপতি এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দেখে আমি মুগ্ধ। কিন্তু মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে কেউ কাউকে হয়রানি বা হেনস্তার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন দায়িত্বে থাকব, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করে যেতে চাই। এজন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’
এ সময় তিনি মান্দা আসনের এমপি ডা. ইকরামুল বারী টিপু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতীন, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ মকলেছুর রহমান মকে, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী (বাবুল)সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিত থেকে যথাসময়ে পাঠদান, শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধি এবং ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। দায়িত্বে অবহেলা বা অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান সভাপতি।
![]()









