
১২ বছর বয়সে মানবপাচারের শিকার, ৩৮ বছর পর পাকিস্তান থেকে পরিবারের সন্ধান পেলেন বরিশালের গোলবানু
৩৮ বছর আগে বাবার সঙ্গে লঞ্চে ঘুরতে গিয়ে নিখোঁজ। লঞ্চঘাট থেকে অপহরণের পর মানবপাচারের শিকার হয়ে পৌঁছান পাকিস্তানে। কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ ৩৮টি বছর। অবশেষে পাকিস্তান থেকে নিজের পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন বরিশালের গৌরনদীর গোলবানু। এখন স্বজনদের একবার দেখার আকুতি তাঁর কণ্ঠে।
মাসুদ মাহাতাব, ঢাকা
মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে লঞ্চে বেড়াতে গিয়েছিলেন গোলবানু। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়ের শুরু। গোলবানুর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ফেরার পথে লঞ্চঘাটে বসে থাকা অবস্থায় কয়েকজন নারী তাঁর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পাকিস্তানে। মুহূর্তেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান বাবা-মা, ভাই-বোনসহ প্রিয় স্বজনদের কাছ থেকে।
সেই যে হারিয়ে যাওয়া, এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৩৮ বছর। শৈশবের চেনা মুখগুলো অচেনা হয়ে গেছে সময়ের ব্যবধানে, বদলে গেছে জীবনের বাস্তবতা। কিন্তু স্মৃতির পাতায় আজও অমলিন রয়ে গেছে নিজের বাড়ি, বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয়।
বর্তমানে প্রায় ৫০ বছর বয়সী গোলবানু অবশেষে পাকিস্তান থেকে নিজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাবার নাম ইসমাইল হাওলাদার এবং মায়ের নাম ফাতেমা। ভাই ফিরোজ হাওলাদার। দুই বোনের একজন শেফালী। ভাইয়ের ছেলে মনির এবং বোনের ছেলে জাকির হোসেন মোল্লা। চাচাদের নাম নয়াব আলী ও রজব আলী। তাঁদের বাড়ি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভাটাজোর এলাকায়। কাছেই রয়েছে বামরাইল নামের একটি স্থান।
দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সদস্যের সন্ধান পেয়ে আনন্দিত স্বজনেরাও। যে মেয়েটিকে একসময় হারিয়ে ফেলে পরিবার হয়তো আর ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছিল, সেই গোলবানুর কণ্ঠ আবারও পৌঁছেছে আপনজনদের কাছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষা আর বিচ্ছেদের পর এই যোগাযোগ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তৈরি করেছে আবেগঘন মুহূর্ত।
একটি শিশু কীভাবে মানবপাচারের শিকার হয়ে পরিবার ও দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, তারই এক বেদনাদায়ক উদাহরণ গোলবানুর জীবন। ৩৮ বছর পর পরিবারের সন্ধান মিললেও এখনো বাকি স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি দেখা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ।
![]()









