
রাজারহাটে ইউএনওর ছুটি নিয়ে বিতর্ক, মনগড়া সংবাদ প্রচারের অভিযোগ
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের নৈমিত্তিক ছুটি গ্রহণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ছুটি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি নিজেকে দৈনিক কালবেলার রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
ওই ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ছুটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ভাইরাল ইউএনও, সেবা না পেয়ে ফিরছেন মানুষ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক মহলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি মনে করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বিধিসম্মত ছুটি গ্রহণের বিষয়টি যথাযথ তথ্য যাচাই ছাড়া নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা পেশাদার সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে চ্যানেল ওয়ানের জেলা প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামান রাশেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছুটি নিতেই পারেন। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা হলে তা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।
প্রকাশিত সংবাদে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ইউএনওর ছুটির আবেদন পাননি বলে অভিযোগ করেন। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ২৫ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের কাছে জমা দেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। পরদিন ২৩ অক্টোবর ওই আবেদন অনুমোদন করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে এক দিনের স্টেশন ত্যাগের অনুমতিসহ ছুটির আদেশ জারি করা হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে ছুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। তিনি ৭১ সংবাদ ডটকমকে জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করা তাঁর অধিকার। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ছুটি গ্রহণের মতো একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত আলোচনা-সমালোচনার যৌক্তিকতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এ সময় ‘স্যার’ সম্বোধন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন তিনি। ইউএনওর বক্তব্য, কোনো মান্যবর মন্ত্রী বা সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মানসূচক ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করা প্রচলিত সামাজিক শিষ্টাচারের অংশ। সম্মান প্রদর্শনের এই প্রচলিত রীতিকে কেন্দ্র করে অযৌক্তিক সমালোচনা কাম্য নয়।
তিনি আরও জানান, পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনগণের সেবা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিকে তিনি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হচ্ছে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদ উপস্থাপন। বিশেষ করে কোনো সরকারি কর্মকর্তা কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া নেতিবাচক বক্তব্য প্রচার করলে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একই সঙ্গে একজন নারী সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বা ব্যক্তিগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিচয় হতে পারে না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করেই সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব।
ইউএনও তানজিলা তাসনিম সাংবাদিক সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও পেশাদার সাংবাদিকতা চর্চার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কোনো বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের আগে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা জরুরি।
![]()









