
রমজানে সুন্দর আচরণের গুরুত্ব
এম এ সবুর
রমজান মুমিনদের জন্য বিশেষ উপহার, যেখানে প্রতিটি ভালো কাজের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। ইসলামে সুন্দর আচরণ, সদাচরণ ও দান-সদকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে রমজান মাসে এগুলোর মর্যাদা আরও বেড়ে যায়।
সুন্দর আচরণের গুরুত্ব:
কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষের সঙ্গে উত্তম ও সুন্দর কথা বলতে হবে (সুরা বাকারা: ৮৩)।
রাসুল (স.) বলেছেন, আল্লাহভীতি ও সুন্দর আচরণ মানুষকে জান্নাতে পৌঁছাবে (তিরমিজি: ২০০৩)।
হাসিমুখে কথা বলাও সদকার অন্তর্ভুক্ত (রিয়াজুস সালেহিন: ৬৯৪)।
রমজানে উত্তম আচরণ বজায় রাখা:
রোজার সময় রাগ বা অসহিষ্ণুতা দেখানো উচিত নয়।
ঝগড়া, মিথ্যাচার, গিবত ও অশ্লীলতা বর্জন করা প্রয়োজন।
রাসুল (স.) বিনয়ের সঙ্গে মানুষকে সংশোধন করতেন, যেমন মসজিদে প্রস্রাবকারীকে কঠোরভাবে বাধা না দিয়ে সুন্দরভাবে বুঝিয়েছিলেন (সহিহ মুসলিম: ৬৮৭)।
সুন্দর আচরণের পুরস্কার:
উত্তম চরিত্র কেয়ামতের দিন সবচেয়ে মূল্যবান আমল হবে (তিরমিজি, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ)।
মুমিনদের মধ্যে আল্লাহর কাছে প্রিয়তম তারা, যারা উত্তম আচরণকারী (তিরমিজি: ২১০৮)।
নামাজ-রোজার পাশাপাশি প্রতিবেশীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে জান্নাত পাওয়া কঠিন (বুখারি: ৬১৩৮)।
সুন্দর আচরণ ইসলামের সারকথা:
রসুলুল্লাহ (স.) কোমলতা ও সদাচরণের আদর্শ ছিলেন (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)।
মুমিনদের উচিত দান-সদকা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা ও মানুষের কল্যাণে সচেষ্ট থাকা (সুরা আন নিসা: ৩৬)।
রমজান শুধু ইবাদতের মাস নয়, বরং মানুষের প্রতি সদাচরণ, সহানুভূতি ও ক্ষমার অনুশীলনের সময়। মহান আল্লাহ সবাইকে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
![]()









