
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে এসো সচেতন হই সোসাইটির র্যালি, সেমিনার ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আর্থিক সহায়তা প্রদান
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বানের মধ্য দিয়ে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীতে র্যালি, সেমিনার, আলোচনা সভা ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রণোদনামূলক সহায়তা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ‘এসো সচেতন হই সোসাইটি (এসই)’।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘Lived Experiences Heard: Real Voices, Real Change’। সত্যিকারের কথা, সত্যিকারের পরিবর্তন’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা ব্যক্তিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাঁদের প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকাল সাড়ে সকালে রাজধানীর মুগদা বিশ্বরোড, আইডিয়াল স্কুল ও হাসপাতাল গেট এলাকায় র্যালির কর্মসূচি রাখা হয়।উত্তর মুগদায় সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় সেমিনার ও আলোচনা সভা। এতে মানসিক স্বাস্থ্যসচেতনতা, বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা, সামাজিক সহযোগিতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেমিনার শেষে দুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রণোদনামূলক সহায়তা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটোরিয়াম পর্যন্ত আরেকটি র্যালির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় সেখানে সংগঠনটি প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি,
জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী , সমাজকর্মী ও
মেন্টাল হেলথ্ এন্ড সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সিলর জনাব মাজহারুল ইসলাম বলেন
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলা এখনো অনেকের কাছে সংকোচের বিষয়। যাঁরা নিজে এই পথ পেরিয়ে এসেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা শুনলেই সমাজ সত্যিকারের পরিবর্তনের পথ খুঁজে পাবে। আমরা চাই অজ্ঞতা নয়, সচেতনতা।”
আয়োজক সংগঠন এসো সচেতন হই সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে এখনো অনেকে সংকোচ বোধ করেন। সামাজিক অবহেলা, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও কুসংস্কারের কারণে অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পিছিয়ে থাকেন। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা, ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংগঠনটির মতে, মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, সহমর্মিতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
![]()









