- - -

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি জালিয়াতি ধরল কর্তৃপক্ষ: ভুয়া প্রার্থীকে পুলিশে সোপর্দ, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

img 20261004 wa0169
Print News

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি জালিয়াতি ধরল কর্তৃপক্ষ: ভুয়া প্রার্থীকে পুলিশে সোপর্দ, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে এক ভুয়া প্রার্থীকে সনাক্তপূর্বক শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি কর্তৃক পরীক্ষা প্রদান ও পরবর্তীকালে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরিতে যোগদানের অপচেষ্টা হাতেনাতে ধরা পড়ায় এ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের ৭টি ক্যাটাগরিতে ৩৭টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের অনুকূলে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। নিয়োগপত্রের নির্দেশাবলি ও শর্তানুযায়ী গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মোট ৩৪ জন প্রার্থী ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করেন।

যোগদানকালীন প্রারম্ভিক সত্যতা যাচাই শেষে, আজ ০৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে যোগদানকারী কর্মচারীদের ছবি, পরিচয় ও অন্যান্য নথিপত্র পুনরায় নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মো. আব্দুল হাই ও মোসলেহা বেগমের পুত্র জনাব মো. মাইদুল ইসলাম (রোল নম্বর: ১৭০০২৭০৭)-এর উপস্থিতির ক্ষেত্রে গুরুতর অসঙ্গতি ফুটে ওঠে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, মৌখিক পরীক্ষার সময় সংরক্ষিত ছবি ও শারীরবৃত্তীয় তথ্যের সঙ্গে আজ উপস্থিত ব্যক্তির চেহারার স্পষ্ট অমিল রয়েছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় সংগৃহীত হাতের লেখার নমুনার সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তির হাতের লেখা মেলাতে গিয়েও বড় ধরণের গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তীতে অন্য সকল যোগদানকারী কর্মচারীদের উপস্থিতিতে মুখোমুখি করা হলে, তারা উপস্থিত ব্যক্তিকে ‘মো. মাইদুল ইসলাম’ হিসেবে সনাক্ত করতে ব্যর্থ হন এবং ওই ব্যক্তি নিজে বা তার সঙ্গে যোগদানকারী কাউকেও চিনতে পারেননি। সার্বিক উপাত্ত ও নিবিড় অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মূল প্রার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে যোগদানের চেষ্টা চালান।

সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে এ ধরনের জালিয়াতিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ফলশ্রুত সনাক্তকৃত ভুয়া ব্যক্তি মো. মাইদুল ইসলাম (রোল: ১৭০০২৭০৭)-কে তাৎক্ষণিকভাবে শাহবাগ থানার এসআই জনাব মো. আবুল কালামের মাধ্যমে থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করছে যে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি, প্রতারণা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে এ ধরণের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa