[bangla_day] - [english_date] - [bangla_date] - [hijri_date]

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে নির্মল বড়ুয়া মিলন এর পদত্যাগ

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে নির্মল বড়ুয়া মিলন এর পদত্যাগ

 

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর-২০২৬ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল বড়ুয়া মিলন স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে প্রেরিত পদত্যাগ পত্রে জানান, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জনাব সাইফুল হক এর পার্টির গঠনতন্ত্র বিরোধী নিম্নে উল্লেখিত সেচ্ছাচারিতার কারণে তিনি বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি হইতে প্রাথমিক সদস্য পদবী সহ- সকল স্থরের সাংগঠনিক পদবী হইতে সেচ্ছায় পদত্যাগের কথা জানান।
১। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা-১৯ এর উপধারা-০২ : দুই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী সময়ে পার্টির সর্বোচ্ছ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে থাকার কথা কিন্তু পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে তিনি একাধিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।
২। উপধারা-০৪ : কেন্দ্রীয় কমিটি সমগ্রভাবে পার্টির প্রতিনিধিত্ব করবে ও পার্টির সমগ্র কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করবে কিন্তু পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে এবং পলিটবুরো’র নাম ভাঙ্গিয়ে তার একক সিদ্ধান্তে পার্টির কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এছাড়া পার্টি তার নিজের পারিবারিক সংগঠন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। যা সম্মানজনক নয়।
৩। উপধারা-০৮ : কেন্দ্রীয় কমিটি নিজ সদস্যদের মধ্যে থেকে সাধারণ সম্পাদক, প্রয়োজনে একজন সভাপতি এবং পলিটবুরো বা রাজনৈতিক পরিষদ নির্বাচন করবে। কিন্তু পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক অতি ক্ষমতার লোভে ৬-৯ জানুয়ারি-২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত পার্টির ১০ কংগ্রেস এর সকল কাউন্সিলার ও জেলা কমিটির প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা করে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদটি শূণ্য রাখেন। পার্টিতে একক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষে এবং তার ইচ্ছামত পার্টি চালাতে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদটি খালি রেখেছেন।
৪। ২০১৯ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ ০৮ বছর কালের দাবি (www.kalerdabi.com) পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন নির্মল বড়ুয়া মিলন। পত্রিকার সাইট উন্নয়নের কথা বলে কোন কিছু না জানিয়ে কালের দাবি পত্রিকা থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। পার্টির ওয়েভ সাইট আর ডব্লিউ পিবিডি ডট ওআরজি (www.rwpbd.org) এবং জনগণতন্ত্র পত্রিকা (www.jonogonotontro.com) নবায়ন ব্যতিত নিজ খরচে তিনি ০৮ বছর ধরে চালিয়েছেন। ০৩টি ওয়েভ সাইট এর ইন্টারনেট বিল বাবদ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা প্রদানের কথা থাকলেও পার্টির সাধারণ সম্পাদক কিংবা পার্টির পলিটবুরো সদস্য বহিৃশিখা জামালী তাকে কোন টাকা দেয়নি। পার্টি থেকে ইন্টারনেট বিল বাবদ তার পাওনা ৯৬ হাজার টাকা উল্লেখ করেন।
৫। বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, ঢাকায় এই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন। কেন্দ্রীয় কমিটি সাথে কোন ধরনের আলোচনা ব্যতিরেখে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও পার্টির পলিটবুরো সদস্য বহিৃশিখা জামালী জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এ কেমলমাত্র স্বামী-স্ত্রী স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যান এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন।
৬। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৫ এ গণতন্ত্র মঞ্চের সংসদ সদস্য প্রার্থী তালিকায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক এর নাম ছিলো ঢাকা-০৮ আসনে ঢাকা-১২ আসনে গণতন্ত্র মঞ্চের সংসদ সদস্য প্রার্থী তালিকায় নাম ছিলো গণসংহতি আন্দোলনের তসলিমা আখতারের কিন্তু সাইফুল হক পার্টি ও গণতন্ত্র মঞ্চের কারো সাথে আলোচনা না করে তার একক সিদ্ধান্তে ঢাকা-১২ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেন। যে কারণে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। গণতন্ত্র মঞ্চের ঐক্য নষ্ট হয়।
৭। জনৈক পার্টির পলিটবুরো সদস্য দেয়া তথ্য মতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের বিএনপি সংসদ নির্বাচনের খরচের জন্য ২০ কোটি টাকা করে অনুদান দিয়েছে, কিন্তু পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিং এ সাইফুল হক বলেছেন; সংসদ নির্বাচনের খরচের জন্য বিএনপি থেকে কোন টাকা সাইফুল হক-কে দেয়া হয়নি। পার্টির গুরুত্বপূর্ণ এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, নির্বাচনের জন্য বিএনপি থেকে প্রাপ্ত টাকা ১২ কোটি টাকা সাইফুল হক খরচ করেছে, বাকি ০৮ কোটি টাকা তার কাছে জমা আছে। নির্মল বড়ুয়া মিলনের প্রশ্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে ০৮ মাস হয় তিনি কেন অদ্যবধি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট তার নির্বাচনী আয়-ব্যয় হিসাব উপস্থাপন করেন নি? এর মূল রহস্য কি?
৮। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২দিন পর পার্টির কাউকে কোন কিছুই না জানিয়ে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক তার স্ত্রী বহিৃশিখা জামালী কে নিয়ে ১৫ ফেব্রয়ারি-২০২৬ রবিবার দুপুরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সাইফুল হক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার স্ত্রী কে নিয়ে যে কোন কারো সাথে দেখা করতে পারেন, কিন্তু পার্টির নাম ব্যবহার করে কারো সাথে দেখা করার আগে কেন্দ্রীয় কমিটির পরামর্শ নেয়া বাধ্যতামূলক। এখানে পার্টির সাধারণ সম্পাদক এক নায়েকতন্ত্র কায়েম করেছেন।
৯। সাইফুল হক এবং তার স্ত্রী বহিৃশিখা জামালী কে সাথে নিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০২৬ তারিখে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন। পার্টির নাম ব্যবহার করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে কোন ধরনের আলোচনা করেনি। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি যেন তাদের স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক সম্পদ।
১০। গত ২০ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০২৬ ক্যাবিনেট হল, জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের “সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’র সাথে জুলাই সনদে স্বাক্ষরদানকারী রাজনৈতিক দলসমূহের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক তার স্ত্রী বহিৃশিখা জামালী ও আকবর খান অংশ গ্রহন করেন। এধরনের অতিব গুরুত্বপূর্ন সভায় অংশ গ্রহনের আগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে কোন আলোচনা করেনি সাইফুল হক তার স্ত্রী বহিৃশিখা জামালী ও আকবর খান।
নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন, বিগত ১৭ বছর পার্টির সাথে কাজ করে অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সাইফুল হক তার স্ত্রী বহিৃশিখা জামালী ও আকবর খান এর ব্যক্তিগত সম্পদ।
তিনি আরো জানান, সাইফুল হক তার স্ত্রী বহিৃশিখা জামালী ও আকবর খান এর কারণে পার্টি কর্মী বান্ধব নয়। মফস্বল জেলা/উপজেলা সমুহের নেতা-কর্মী, শ্রমিক শ্রেণীর কোন নেতা-কর্মীর কোন মূল্যয়ন নাই। সাইফুল হক এর রাজনীতি “বিপ্লবী” রাজনীতির সংজ্ঞায় পড়ে না।
সাইফুল হক পেটিবর্জুয়া রাজনীতির চর্চা করেন। সাইফুল হক একজন বর্ণবাদি চরিত্রের লোক। তিনি সংখ্যালঘুদের চরম বিদ্বেষী, তিনি লেবাসধারী প্রগতিশীল।
নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন. তিনি বৈষম্যর শিকার শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তিকামী মানুষের রাজনীতির পক্ষে। কিন্তু “বামপন্থী” ও “বিপ্লবী” শব্দ ব্যবহার করে পার্টির নেতা-কর্মীদের তথা জনগণকে বিভ্রান্তকারী নয়।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn