- - -

বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের বর্ণাঢ্য শুভ অভিষেক ও সংগীতানুষ্ঠান

img 20261108 wa0035
Print News

বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের বর্ণাঢ্য শুভ অভিষেক ও সংগীতানুষ্ঠান

 

চট্টগ্রামে উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি (বাগীশিক) কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির শুভ অভিষেক অনুষ্ঠান। গত ৬ নভেম্বর (শুক্রবার) নগরীর জিইসি মোড়স্থ জিইসি কনভেনশন হলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের কর্মসূচিতে ছিল পার্থসারথি পূজা, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সমস্বরে গীতাপাঠ, অভিষেক অনুষ্ঠান, গীতি আলেখ্য, সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণ।

বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ঝুন্টু চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দ্বৈত সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. অঞ্জন কুমার দাশ ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক পলাশ কান্তি নাথ রণী। অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক ছিলেন পটিয়া পাঁচরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী রবীশ্বরানন্দ পুরী মহারাজ। উদ্বোধন করেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা তিনকড়ি চক্রবর্তী। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন করেন কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা শিবু প্রসাদ দত্ত। অনুষ্ঠানের মহান অতিথি ছিলেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা ও মনস্বী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হারাধন নাগ।

সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. হরিশংকর জলদাস এবং প্রথিতযশা চিকিৎসক প্রফেসর ডা. বিনয় পাল।

নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের শপথবাক্য পাঠ করান বাগীশিকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কর্মবীর দিলীপ কুমার ভট্টাচার্য্য। গীতা ভাণ্ডারের দ্বারোদ্ঘাটন করেন কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা সাধন দাশ। পাঠ্যক্রমের মোড়ক উন্মোচন করেন উপদেষ্টা বাবুল ঘোষ বাবুন। আর বাগীশিকের স্মরণিকা ‘জ্যোতি’র মোড়ক উন্মোচন করেন উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সুনির্মল রায়। স্মরণিকাটি সম্পাদনা করেন যীশু সেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল, বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ বিজয় লক্ষ্মী দেবী, অ্যাডভোকেট প্রবীর কুমার ভট্টাচার্য্য, লায়ন দিলীপ কুমার শীল, লায়ন শম্ভু দাশ, অধ্যাপক কৃষ্ণা দাশ, চিত্রালী রায়, কৃষ্ণা চৌধুরী, রাজীব দাশ, দেবব্রত দাশ, দীপেন সাহা, প্রফেসর ড. সুদীপা দত্ত, অধর লাল চক্রবর্তী, অ্যাডভোকেট কবিশেখর নাথ পিন্টু, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী, অমৃত লাল দে, বিপুল বিহারী হালদার, প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন ও শংকর কুমার সাহা।

বিশেষ বক্তা ছিলেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শুভাশীষ শর্মা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অভিষেক উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট প্রণব কুমার মজুমদার এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উদযাপন পরিষদের সদস্যসচিব অরুণ কান্তি মল্লিক।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে আগত বাগীশিকের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা জেলার আহ্বায়ক নিখিল রঞ্জন রায়, ঢাকা মহানগরের সভাপতি ড. দিলীপ কুমার শর্মা, বাগেরহাট জেলার সহসভাপতি তুষার কান্তি বিশ্বাস, সিলেট জেলার ডা. মালা রানী দে, পঞ্চগড় জেলার সহসভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ রায়, লালমনিরহাট জেলার সুদাম চন্দ্র রায়, নাটোর জেলার বিপুল রায়, টাঙ্গাইল জেলার সুশান্ত কুমার পাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চন্দ্র সাহা (বাপ্পী), মাদারীপুর জেলার সহসভাপতি গৌরাঙ্গ বসু, বরিশাল জেলার বিপুল বিহারী হালদার, চাঁদপুর জেলার সভাপতি ডা. বিধান চন্দ্র দাশ, ফেনী জেলার সভাপতি প্রকৌশলী চঞ্চল দে সরকার, নোয়াখালী জেলার সভাপতি পূর্ণেন্দু শেখর পাল, লক্ষ্মীপুর জেলার অ্যাডভোকেট শিল্পী পাল, কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক সজল ধর, খাগড়াছড়ি জেলার শিউলী বিশ্বাস, রাঙ্গামাটি জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর পাল, চট্টগ্রাম মহানগর সংসদের সভাপতি প্রকৌশলী সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক, উত্তর জেলা সংসদের সভাপতি লায়ন শুভাশীষ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সংসদের সভাপতি পুলক চৌধুরী, রংপুর জেলার দীপংকর ভট্টাচার্য্য এবং সুনামগঞ্জ জেলার অশোক কুমার দে প্রমুখ।

সমস্বরে গীতাপাঠে অংশ নেন চাক্তাই শ্রীশ্রী লোকনাথ ধামের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাগীশিকের শিক্ষার্থীরা এবং অনুষ্ঠানে আগত ভক্তবৃন্দ। তাঁদের সম্মিলিত কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানস্থলে এক ভাবগম্ভীর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বাগীশ্বরী সঙ্গীতালয়ের অধ্যক্ষ ওস্তাদ রিষু তালুকদারের পরিচালনায় সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। ‘হে পার্থসারথি, বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ’, ‘কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে চলরে জীবন’ এবং ‘কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে সব কাজে দে মন’সহ বিভিন্ন ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশিত হয়।

সমবেত সংগীতে অংশগ্রহণ করেন ডা. সৌমিত্র দাশ, ঋষিক রায়, গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেবনাথ, শিপলু পাল, লিটন চৌধুরী, স্নেহা মজুমদার, অর্পিতা দাশ, উমা সেন, চমকী নন্দী, বর্ণা দে, সৃষ্টি বনিক, অর্পিতা চৌধুরী, আদ্রিতা চৌধুরী, হিমাদ্রী গুহ, মৌমিতা বিশ্বাস, লাবণী দত্ত, এ্যানি নাথ, অপর্ণা চৌধুরী, তৃষ্ণা দাশ, তুলিকা ভট্টাচার্য, মোহিনী মুখার্জী, অদ্রিতা চৌধুরী, অংকিতা সেন, পৃথুরাজ দাশ (দ্বীপ), নীলাদ্রি চক্রবর্ত্তী, আনন্দ সেন, রিমন সাহা, প্রিয়ন্তী দাশ (পৃথা), ললিত নারায়ণ দাস, অমৃত চক্রবর্তী ঈশান, সুদীপ্ত দাশ, সুমিত্রা দাশ, স্বর্ণময় রুদ্র, সুইটি বর্মন, বৃষ্টি ঘোষ, স্বস্তিকা মজুমদার, দীপা মিত্র, প্রনিধি মজুমদার, প্রিয়ন্তী দাশ (পূর্বা), অর্জুন তালুকদার, অনিরুদ্ধ দাশ, রিয়া দে, বিশাখা দাশগুপ্তা ও জয়ীতা ঘোষ।

গীতি নৃত্যনাট্যে রাধার ভূমিকায় হৃদিতা, কৃষ্ণের ভূমিকায় দুর্জয় এবং সখীর ভূমিকায় অর্চিতা, শ্রেয়া, রাত্রি ও তনুশ্রী অংশগ্রহণ করেন। ‘রুমঝুম রুমঝুম’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন হৃদিতা, দুর্জয়, অর্চিতা, শ্রেয়া, রাত্রি ও তনুশ্রী। একই শিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় নৃত্যও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেন বাউল শিল্পী রথীন মিত্র ও কণ্ঠশিল্পী রীমা দাশ। বাগীশ্বরী সঙ্গীতালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল মনোমুগ্ধকর সংগীতানুষ্ঠান। সিটিবি কালচারাল স্কুল এবং বাগীশিক রাউজানের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক পর্বে বিশেষ মাত্রা যোগ করে ‘টিম রণচণ্ডী’র ‘দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ : নারীশক্তির জাগরণ’ পরিবেশনা।
সঙ্গীতানুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতায় ছিলেন—
কিবোর্ড: তপন চক্রবর্তী ও রুবেল ঘোষ রাতুল,
অক্টোপ্যাড: মোহন চৌধুরী, তবলা: অমর্ত্য চক্রবর্তী ও সৌমেন দাশ, ড্রামস: দীপ্ত,,ঢোল: কিষান দাশ
বাঁশি: সুজন দাশ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অভিষেক অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিক পরিচিতি কিংবা দায়িত্ব গ্রহণের আয়োজন নয়; বরং এটি বাগীশিকের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা, নতুন নেতৃত্বের দায়িত্বশীল পথচলার সূচনা, ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়করণ এবং সমাজের সর্বস্তরে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শাশ্বত শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

বক্তারা আরও বলেন, বাগীশিকের কার্যক্রম বর্তমানে সারাদেশের প্রায় ৫৪টি জেলায় বিস্তৃত। সংগঠনটির অধীনে প্রায় আট হাজার গীতা স্কুলে চার লাখ শিক্ষার্থী ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করছে। গীতার আদর্শে আলোকিত মানবিক, নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংগঠনটির এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আলোচনা, সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং অন্নপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির শুভ অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa