
প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত , শুক্রবার বোনাস ও সোমবার সাপ্তাহিক মজুরি দিবে!! কৃষি ব্যাংক এখনো ঋণ না দেওয়ায় তিনটি চা বাগান কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা প্রশাসন ও দেউন্দি টি কোম্পানির শ্রমিকনেতাদের সাথে সমঝোতায় করে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কৃষি ব্যাংক এখনো লোন না দেওয়ায় কোম্পানি চাপের মুখে পড়ে অন্যত্র টাকা ঋণ নিয়ে শ্রমিকদেরকে শুক্রবার উৎসব বোনাস ও সোমবার সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়া হবে । জানাযায় , ১ কোটি ৮ লাখ টাকা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক পাওনা লোন না দেওয়ায় উপজেলার দেউন্দি টি কোম্পানি অধীনে লাল চান্দ ও দেউন্দি চা বাগান অপরদিকে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা মিরথিংগা চা বাগান গুলোতে সৃষ্ট জটিলতা ও শ্রমিকদের কর্মবিরতি কারণে পরিস্থিতি তীব্র রূপ নিয়েছে। এতে বাগান মালিকপক্ষ চা বাগান কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের প্রাপ্য বকেয়া মজুরি , রেশন ও উৎসব বোনাস না দেওয়ায় তিনটি চা বাগান প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার চরম অনিশ্চয়তা পড়ে খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছেন এবং বাগান কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে পড়েছে । বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক সময়মতো ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর করা টাকা না পেয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ অন্যত্র ঋণ নিয়ে ৬০ শতাংশ মধ্যে ৩০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা ছিল । এর মধ্যে অর্ধেক টাকা নিতে রাজি না থাকায় গত সোমবার ( ১২ অক্টোবর) তিনটি চা বাগানে সকালে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বকেয়া মজুরি ও উৎসব বোনাস পাওনার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে এবং পূর্ণ বকেয়া মজুরি ও উৎসব বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় । বাগান বন্ধ হওয়ার পর চা উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত কারণে সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। বাগান বন্ধ করে দেওয়ার পর ম্যানেজার বাংলো ও স্টাফদের শ্রমিক না থাকায় খুব কষ্টে দিন যাপন করেছেন। এমনকি বাগানে অফিস , কারখানা , বাগানে চায়ের ভেতর ছায়া বৃক্ষ , বাংলোতে পাহারাদার পর্যন্ত ছিল না । এর মধ্যে বাগানে বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক কিছু চুরি ও হয়েছে। গত বুধবার জেলা প্রশাসক দেউন্দি টি কোম্পানির অধীনে চা বাগান বন্ধ খবর শুনে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) গালিব চৌধুরীকে অবগত করার সাথে থানা পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে দেউন্দি টি কোম্পানিতে যায় । সেখানে হাজার হাজার শ্রমিক বাগানের কার্যক্রম বন্ধ করে বিক্ষোভ করে । এসময় বাগান কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সাথে নিয়ে সমোঝোতায় বসে । বাগান কর্তৃপক্ষ কথা শুনার পর শ্রমিক নেতাদের দাবি হচ্ছে প্রতি বছর পূজার আগে শ্রমিকরা ৬০ শতাংশ হারে বোনাস পেলেও এবার বাগান কর্তৃপক্ষ ৩০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এবং পূর্ণ ৬০ শতাংশ বোনাস ও সাপ্তাহিক মজুরি বকেয়া না দেওয়া পর্যন্ত কাজে না যাওয়ার জন্য শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি করে যাচ্ছে । আমরা দিন আনি দিন খাই । সন্তানদের লেখা পড়া কি ভাবে চালাবো। পরে শ্রমিক নেতাদেরকে আশ্বাস দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক লোনের টাকা আসলেই বকেয়া পাওনা পেয়ে যাবে। তোমাদের রিজিক যুগযুগ ধরে চা বাগানের উপর । বাগান কর্তৃপক্ষ খুব চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক হতে পাওনা লোন আনার চেষ্টা চালাচ্ছে । বর্তমানে বাগান কর্তৃপক্ষ যে পরিমাণ উৎসব বোনাস ও সাপ্তাহিক মজুরি টাকা দিবে তা নিয়ে নাও। বাগান বন্ধ থাকলে তোমাদের ক্ষতি । তোমাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে সকল চা বাগান শ্রমিক শুক্রবার কাজে যোগদান করেন এবং বিকেলে ৩০ শতাংশ উৎসব বোনাস দিবে নিয়ে নাও। সোমবার সাপ্তাহিক মজুরি দেওয়া হবে বাগান কর্তৃপক্ষ। এ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নিবে শ্রমিকরা ।
![]()









