
নওগাঁর মহাদেবপুরে এক অসহায় পরিবারের জমি জবরদখলের অভিযোগ;প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশ
নওগাঁর মহাদেবপুরে প্রায় পাঁচ দশক ধরে ভোগদখলে থাকা পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকলেও বিরোধপূর্ণ জমিতে ধান রোপণ ও নতুন করে জমি দখলের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষ দাবি করেছে, বৈধ দলিলের অতিরিক্ত জমি দখলে রেখেছেন অভিযোগকারীরা। উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের বান্দ কুরমইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শামসুল আলম জানান, তাঁর বাবা মৃত জসিম উদ্দীন খাঁ ১৯৭০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ১২৫১৫ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিলমূলে নবাই মণ্ডলের কাছ থেকে বান্দ কুরমইল মৌজায় ২ একর এবং ভবানীপুর মৌজায় সোয়া ৯২ শতক জমি ক্রয় করেন। একই তারিখে ১২৫১৬ নম্বর দলিলমূলে তাঁর মা মজিরন বিবি ভবানীপুর মৌজায় আরও সোয়া ৫৫ শতক জমি ক্রয় করেন। এ ছাড়া বান্দ কুরমইল মৌজার বিভিন্ন খতিয়ানে তাঁর বাবার নিজস্ব অংশের জমিও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শামসুল আলম আরও জানান, বাবা জসিম উদ্দীন খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর তিন ছেলে ও চার মেয়ে এবং মা মজিরন বিবির মৃত্যুর পর তাঁদের বৈধ উত্তরাধিকারীরা নিজেদের প্রাপ্য অংশের জমি নামজারি করে নিয়েছেন। যার নামজারি মামলা নম্বর ১০৪৮৭ (ওঢ-ও), ২০২৫-২৬। দীর্ঘ ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে এসব জমি ভোগদখল করে এলেও আরএস রেকর্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে অন্তত ১৪ বার সালিসি বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গত আষাঢ় মাসে আমাদের বেশ কিছু জমি দখল করে ধান রোপণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে আরও একটি চাষাবাদ করা জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে শামসুল আলম বলেন, ‘আমার বাবা-মা দলিল করে জমি কিনেছেন। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি আমরা নামজারিও করেছি। অথচ আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকার পরও জমি দখল বন্ধ হচ্ছে না। থানায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছি না। এমনকি একজন এতিম সন্তানের অংশের জমিও দখল করা হয়েছে। আমরা এখন অসহায়। আদালতে মামলা চলার পরও যদি এভাবে জমি দখল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কোথায়?’
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রতিপক্ষের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সাড়ে ২৪ বিঘা জমির মধ্যে জসিম উদ্দীন ও তাঁর স্ত্রী মজিরন বিবি সাড়ে ১০ বিঘা জমির কবলাদার বলে দাবি করছেন। তাঁরা যে দুটি দলিল দেখিয়েছেন, রাজশাহী ও বালুরঘাটে সেগুলোর তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈধ দলিল অনুযায়ী যার যতটুকু জমি প্রাপ্য, তিনি ততটুকুই পাবেন। সঠিক দলিল দেখাতে পারলে জমি ছেড়ে দিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’
তিনি আরও জানান, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিসি বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। এ কারণে তাঁরাও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। তাই মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পুলিশের নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
এদিকে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে দীর্ঘদিনের বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা।
![]()









