- - -

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর গড়তে নতুন দিগন্তের সূচনা’ চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন কাল—মেয়র ডা. শাহাদাত

img 20261008 wa0046
Print News

‘পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর গড়তে নতুন দিগন্তের সূচনা’
চট্টগ্রামে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন কাল—মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম: যানজট ও পরিবেশদূষণ কমিয়ে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি করতে চট্টগ্রামে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক। আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হবে।

উদ্বোধনের একদিন আগে আজ বৃহস্পতিবার সাইকেল ট্র্যাকের সার্বিক প্রস্তুতি ও নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র সাইকেল ট্র্যাকের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্বোধন উপলক্ষে চলমান প্রস্তুতি, নির্মাণমান ও নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ট্র্যাকটি ব্যবহারকারীবান্ধব, নিরাপদ ও নান্দনিকভাবে প্রস্তুত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি সাইকেল চলাচলের পথ নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর নগরজীবনের দিকে আমাদের অগ্রযাত্রার প্রতীক।”
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি চার লেনবিশিষ্ট। সড়কের উভয় পাশে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত। সড়কের মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে সড়কটি শুধু যান চলাচলের উপযোগীই হবে না, বরং নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
তিনি বলেন, নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইকেল চলাচলের জন্য পৃথক লেন থাকায় একদিকে সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে নগরীতে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতন ও সক্রিয় জীবনযাপনের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, “আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। নিরাপদ সাইকেল চলাচলের পরিবেশ তৈরি হলে সাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে, যানজট ও দূষণ কমবে এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামকে একটি সাইকেলবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এ উদ্যোগকে নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারে আগ্রহ সৃষ্টি, শরীরচর্চার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাইকেল ট্র্যাকটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামীকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নগরবাসীর জন্য বাংলাদেশের প্রথম এই সাইকেল ট্র্যাক উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া এবং মেয়রের একান্ত সচিব (অ. দা.) আজিজ আহমদ।

ক্যাপশন- দেশের প্রথম বাইসাইকেল ট্র‍্যাক পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa