
জীবনের শেষ সত্য
-মাধুরী ব্যানার্জী
গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি ছোট কুঁড়েঘরে থাকতেন বৃদ্ধ অনিরুদ্ধ। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি কাটিয়েছেন অর্থ, জমি আর সম্মান অর্জনের পিছনে ছুটে। তাঁর ছিল বড় বাড়ি, বিস্তীর্ণ জমিজমা, লোকের চোখে প্রচুর প্রতিপত্তি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একে একে সবকিছু যেন দূরে সরে যেতে লাগল।
স্ত্রী বহু বছর আগেই চলে গিয়েছেন। ছেলেমেয়েরা নিজেদের সংসারে ব্যস্ত। বিশাল বাড়ির অনেক ঘর থাকলেও তাঁর সঙ্গী ছিল কেবল নীরবতা।
একদিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি শয্যাশায়ী হলেন। গ্রামের ডাক্তার এসে বললেন, “সময় খুব বেশি নেই।”
সেদিন রাতে জানালার পাশে শুয়ে আকাশের তারাগুলোর দিকে তাকিয়ে অনিরুদ্ধ ভাবতে লাগলেন—সারা জীবন যা কিছু নিজের বলে আগলে রেখেছিলেন, তার কোনোটাই তো সঙ্গে নেওয়া যাবে না। জমি থাকবে, বাড়ি থাকবে, অর্থ থাকবে; শুধু তিনি থাকবেন না।
পরদিন তাঁর পুরোনো বন্ধু নরেন দেখতে এলেন। অনিরুদ্ধ মৃদু হেসে বললেন,
—”জানো নরেন, এতদিন ভেবেছিলাম সম্পদই জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য। আজ বুঝছি, মানুষের ভালোবাসা আর স্মৃতিই আসল সম্পদ।”
নরেন চুপ করে তাঁর হাত ধরলেন।
কয়েক দিন পর অনিরুদ্ধ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। গ্রামের মানুষ তাঁর অন্ত্যেষ্টিতে এসে বলল, “তিনি শেষ জীবনে অনেক দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করেছিলেন।”
তাঁর বাড়ি, জমি, অর্থ সব রয়ে গেল পৃথিবীতেই। কিন্তু মানুষের মনে রয়ে গেল তাঁর পরিবর্তিত হৃদয়ের গল্প।
জীবনের শেষ মুহূর্তে অনিরুদ্ধ যে সত্যটি উপলব্ধি করেছিলেন, তা খুবই সহজ—
মানুষ খালি হাতে আসে, খালি হাতেই যায়। সঙ্গে যায় না ধন-সম্পদ; সঙ্গে থাকে শুধু কর্মের স্মৃতি আর মানুষের ভালোবাসা।
![]()









