
জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ গ্রাম পুলিশ সাগরের বিরুদ্ধে
জন্মনিবন্ধন তৈরি ও সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও কাজ করে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সাগরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কোনো ধরনের রসিদ ছাড়াই টাকা নিয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে তাদের।
জিনজিরার বাসিন্দা ফারুক জানান, পরিবারের চার সদস্যের জন্মনিবন্ধনের কাজ করিয়ে দেওয়ার জন্য গ্রাম পুলিশ সাগরকে দায়িত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে দুটি নতুন জন্মনিবন্ধন এবং দুটি সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা নেন সাগর। তবে টাকা নেওয়ার বিপরীতে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হলেও জন্মনিবন্ধনগুলো করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, নজরগঞ্জের বাসিন্দা রুবিনা (ছদ্মনাম) জানান, ছেলের জন্মনিবন্ধন করাতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে গেট থেকে তাকে ডেকে কাজের বিষয়ে জানতে চান গ্রাম পুলিশ সাগর। পরে জন্মনিবন্ধন করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই ৩০০ টাকা নেন। এক মাস পার হলেও জন্মনিবন্ধন না পেয়ে বারবার যোগাযোগ করেন তিনি। কিন্তু শুধু দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং একপর্যায়ে ফোন ধরাও বন্ধ করে দেন সাগর। সন্তানের স্কুলে জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন হওয়ায় পরে আবার টাকা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেই কাজটি করিয়ে নিতে হয় তাকে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু ফারুক কিংবা রুবিনা নন, আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও একইভাবে রসিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হয়েছে। কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দিনের পর দিন ঘোরানো হলেও শেষ পর্যন্ত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সাগরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, “গ্রাম পুলিশের টাকা নেওয়ার কোনো অধিকার নাই বিশেষ করে রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়া যাবে না। সাগরের বিষয়ে আমি কিছু জানি না আমি নতুন যোগদান করেছি”।
তবে সরকারি সেবা নিতে এসে এভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
![]()









