- - -

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় জায়গা নিয়ে বিরোধ, দুই ভাইয়ের পেটে ছুরিকাঘাত; থানায় মামলা

1000846808
Print News
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় জায়গা নিয়ে বিরোধ, দুই ভাইয়ের পেটে ছুরিকাঘাত; থানায় মামলা
চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ান বাজার এলাকার ভরা পুকুরপাড়ে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক পরিবারের দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাঁদের বাবা, মা ও বোনকে মারধর এবং মা ও বোনের শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা হয়েছে।
গত ৩০ মে সকাল সাতটার দিকে নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ান বাজার এলাকার ভরাপুকুরপাড়ে আবদুল কাদেরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী আবদুল জলিল (৬৫) এজাহারে উল্লেখ করেন, ওই বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি নিয়ে ৪ নম্বর আসামি এনামুল হক হাসানের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা ও নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল সাতটার দিকে আট আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষ লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও কিরিচ নিয়ে তাঁদের বাড়ির সীমানার ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে দক্ষিণ পাশে টিনের বেড়া দিতে থাকেন। খবর পেয়ে আবদুল জলিল ও তাঁর ছেলেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাচীর ভাঙার কারণ জানতে চাইলে আসামিরা তাঁদের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি মো. হুমায়ুন ফারুক সজীব ছোরা দিয়ে বাদীর বড় ছেলে আবদুল ওয়াহেদ মুন্না (৩৫)-এর পেটের বাম পাশে উপর্যুপরি আঘাত করেন। অন্যদিকে ১ নম্বর আসামির নির্দেশে ২ নম্বর আসামি সৈয়দ রুম্মন আজফার ছোরা দিয়ে ছোট ছেলে মাঈন উদ্দিন হাসান মিনহাজ (২৮)-এর পেটের ডান পাশে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে দুই ভাই গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বাদী আবদুল জলিল, তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকেও মারধর করেন। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয়। একই সঙ্গে বাদীর স্ত্রী ও মেয়ের পোশাক খুলে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা জায়গা ছেড়ে না দিলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে সিএনজি অটোরিকশায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের জরুরি বিভাগের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে বাকলিয়া থানায় মামলা করেছেন আবদুল জলিল। মামলার নম্বর ৩৯/৪১০। মামলাটি তদন্ত করছেন বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আলম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ইন্সপেক্টর মো. ইউনুছ খন্দকার। তিনি বলেন, ‘মামলা রেকর্ড হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa