
কুষ্টিয়ায় পীর শামীম হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীসহ ঘাতকরা গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে (৬০) নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ অভিযানে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ঘাতকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তৎপর অভিযানে সাফল্য শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীমের আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা এবং অনুসারীদের আহত করার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্রুত ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে হত্যার নির্দেশদাতা এবং সরাসরি হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ন্যায়বিচারের দাবি এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহল এবং মানবাধিকার কর্মীরা একে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁরা দাবি করেছেন, কেবল গ্রেপ্তারই যথেষ্ট নয়, বরং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁরা মনে করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনি পথে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতি ও জনমত ঘটনার পর বিভিন্ন মহল থেকে ন্যায়বিচারের দাবি উঠেছে। অনেকে বলছেন, “কোনো মানুষকেই যেন এভাবে নৃশংসভাবে জীবন দিতে না হয়। আমরা চাই সত্য উন্মোচিত হোক এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।” এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সুধী সমাজ।
পুলিশের অবস্থান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আর কার কার ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের বিস্তারিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।
বর্তমানে দৌলতপুর এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং কোনো ধরণের গুজব থেকে সতর্ক থাকতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
![]()









