
আল্লামা হাসমত আলী গুমানমর্দনী (রহ.)-এর ১০০তম ইছালে ছাওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, শিক্ষাবিদ, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট সমাজনেতা কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক হেড মাওলানা অধ্যক্ষ আল্লামা হাসমত আলী গুমানমর্দনী (রহ.)-এর ১০০তম ইছালে ছাওয়াব মাহফিল গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার (১৩ কার্তিক) প্রায় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারীর গুমানমর্দনস্থ ঐতিহাসিক সুলতান বাড়িতে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সামশুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা হাসমত আলী গুমানমর্দনী (রহ.) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের ঘনিষ্ঠজন এবং বাংলার বাঘ খ্যাত শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের শিক্ষাগুরু। তিনি হযরত গাউছুল আযম মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (রহ.)-এর অকৃত্রিম বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।
হাটহাজারীর প্রসিদ্ধ সুলতান আশরফশাহ গৌড়ী (রহ.)-এর বাড়ি হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী সুলতান বাড়ির এই বুজুর্গ ব্যক্তিত্ব তৎকালীন কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা ও হুগলী আলিয়া মাদ্রাসায় হেড মাওলানা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর দুই সুযোগ্য সন্তান ছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম মহসিনিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক আল্লামা আবুল হায়াত ওবায়দুল মুকতাদির এবং চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজের প্রিন্সিপাল এ টি এম আব্দুল হাই (রহ.)।
এছাড়াও তিনি কলকাতার প্রখ্যাত বুজুর্গ দাদাজী মোল্লা ছফিউল্লাহ (রহ.)-এর ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বীরপুরুষ আল্লামা হাফেজ হাকিম মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহ.)-এর মহাজেরে মক্কীর শ্বশুর আব্বা ছিলেন তিনি। অন্যদিকে, রাউজান সুলতানপুর হাজীপাড়া মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হযরত আল্লামা আফতাব উদ্দীন মহাদ্দেসে দেহলভী (রহ.) ছিলেন আল্লামা হাসমত আলী (রহ.)-এর শ্বশুর আব্বা। আল্লামা হাসমত আলী (রহ.)-এর জীবন, কর্ম, শিক্ষা, আধ্যাত্মিক সাধনা ও ঐতিহাসিক অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে অধ্যক্ষ আল্লামা মোহাম্মদ হাসমত আলী (রহ.) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় ৮ম বার্ষিক জ্ঞানচর্চা প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় সুলতান আশরাফ (রহ.) একাডেমীতে। একই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক সুলতান বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয় ১০০তম ইছালে ছাওয়াব মাহফিল।
ফাউন্ডেশনের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক এবং চট্টগ্রাম বারের অন্যতম প্রবীণতম আইনজীবী, আল্লামা হাসমত আলী (রহ.)-এর নাতি এ. এফ. মঈনুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন হাসান (হাসনাইন)।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আইয়ুব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ সফিউল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ সেকান্দর আলম, প্রাক্তন ব্যাংকার চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক শাহ, সাবেক বনসংরক্ষক মোহাম্মদ শাহ-ই আলম, অধ্যক্ষ প্রফেসর জাফর আহমেদ, হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা শাহছুফী মোহাম্মদ হানিফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফোরকান, এসএম ওসমান টিপু, লেখক টিপু সুলতান, মাহবুবুর রহমান ছফিউল্লাহ, মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, মুহাম্মদ জসিম, মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ, মোহাম্মদ নাছির, মুহাম্মদ জাফরুল ইসলাম, মোহাম্মদ জাবের, মাওলানা বদরুদ্দীন, বদরুর রহমান মহিউদ্দিন জিলি এবং কামরুল আরশ জিলান।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ, জাতি ও সমগ্র মানবতার কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আল্লামা মোহাম্মদ হাসমত আলী (রহ.)-এর প্রপৌত্র এবং দরবার এ বেতাগী আস্তানা শরীফের সাজ্জাদানশীন পীরে তরিকত হযরত মাওলানা মুহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ (মাঃজিঃআলী)।
উল্লেখ্য, আল্লামা হাসমত আলী গুমানমর্দনী (রহ.)-এর মতো প্রজ্ঞাবান আলেম, শিক্ষাবিদ ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্বের জীবনাদর্শ, শিক্ষা ও ঐতিহাসিক অবদান সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
![]()









