- - -

রায়ের পরও জটিলতায় কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের জমি, ইউএনও-এসিল্যান্ড-পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের অভিযোগ

img 20261014 wa0216
Print News

রায়ের পরও জটিলতায় কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের জমি, ইউএনও-এসিল্যান্ড-পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের অভিযোগ

 

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তির বিষয়ে আদালতের রায় ও ডিক্রি থাকলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতা কাটছে না। ২০১৯ সালে কলেজের পক্ষে রায় হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জমি অবমুক্তির প্রশাসনিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে জটিলতা এবং বিভিন্ন শর্তের কারণে এ দীর্ঘ জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আফতাব উদ্দীন। এ পরিস্থিতিতে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আদালত থেকে সরবরাহ করা নথি অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজের জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তির দাবিতে ২০১৩ সালে ১০৩২ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। নোয়াখালীর অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনাল ও যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলাটির বিচার করেন বিচারক নাসরিন জাহান।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি আদালত কলেজের অনুকূলে রায় দেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য, দাখিল করা দলিলপত্র ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

রায়ের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, মামলার আরজিতে উল্লেখিত জমি কলেজের অনুকূলে বাধাহীনভাবে অবমুক্তির আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি রায়ের অনুলিপি নোয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর নির্দেশনাও ছিল।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া মৌজার বিভিন্ন দাগে অবস্থিত জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি পূর্ববর্তী মালিকদের কাছ থেকে বৈধ দলিলের মাধ্যমে ক্রয় ও হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে বসুরহাট কলেজের নামে অর্জিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি মুজিব কলেজে রূপান্তরিত হয়।

যাহা বর্তমানে কোম্পানীগঞ্জ সরকারি কলেজ-

মামলার নথিতে ১৯৭০ সালের ১২ জানুয়ারির ১৯১ নম্বর দলিল এবং ১৯৭৩ সালের ২৬ জুলাইয়ের ৩৫০৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিলসহ একাধিক দলিলের উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া জমির বিভিন্ন জরিপের খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত তথ্যও নথিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরবরাহ করা নথির একটি বিবরণে বিভিন্ন দাগে মোট ৬০ শতক জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তির দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪০১, ১৪০৯, ১৪১০, ১৪১৬, ১৩৯৯, ১৩৯০, ১৩৯১, ১৩৯৫, ১৫৫২ ও ১৫৫৩ নম্বর দাগ রয়েছে।

এ অবস্থায় আদালতের মূল রায়, ডিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট জমির তফসিল যাচাই করে প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আফতাব উদ্দীন অভিযোগ করেন, আদালতের রায় ও ডিক্রি থাকা সত্ত্বেও জমি অবমুক্তির বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয়ের অভাব এ জটিলতাকে দীর্ঘায়িত করছে বলে তাঁর দাবি।

অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পৌর প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টিও সামনে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শর্তের কারণে জমি অবমুক্তির প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি। এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরের দায়িত্বের কথা বলা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতার কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘদিন ধরে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের মূল রায় ও ডিক্রির আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে জমি অবমুক্তির কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।

একই সঙ্গে জমির মালিকানা, দাগ-খতিয়ান, প্রকৃত পরিমাণ এবং প্রশাসনিক অবস্থান যাচাই করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সমস্যাটির নিষ্পত্তি চায় প্রতিষ্ঠানটি।

দীর্ঘদিন ধরে জমি অবমুক্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় কলেজের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সব মিলিয়ে, কোম্পানীগঞ্জ সরকারি মুজিব কলেজের জমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্তির বিষয়টি এখন আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, জমির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে এ জটিলতার আইনানুগ নিষ্পত্তি হবে, এমনটাই প্রত্যাশা কলেজ কর্তৃপক্ষের।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa