- - -

নওগাঁয় অস্ত্রের মুখে নারীকে অপহরণের অভিযোগ, ২৪ দিনেও সন্ধান মেলেনি

img 20261014 wa0025~2
Print News

নওগাঁয় অস্ত্রের মুখে নারীকে অপহরণের অভিযোগ, ২৪ দিনেও সন্ধান মেলেনি

 

নওগাঁ সদর উপজেলায় বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে এক নারীকে অচেতন করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ২৪ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই নারীর সন্ধান পাননি স্বজনরা। মেয়েকে ফিরে পেতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস না পেয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তার বাবা।

নিখোঁজ নারীকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন, পাচার কিংবা হত্যার পর মরদেহ গুম করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

এ ঘটনায় নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা দুলাল হোসেন (৫৯)। মামলার নম্বর ১৫০/২০২৬ (নাঃ শিঃ)। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(১)/৩০ ধারায় দায়ের করা মামলায় নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্তিপুর (মুরাপাড়া) গ্রামের পিন্টু হোসেনের ছেলে রিয়াদ হোসেনকে (২৮) প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন রিয়াদের ছোট ভাই মাহবুব হোসেন (২৪), বাবা পিন্টু হোসেন (৫৫), মা রোকেয়া বেগম ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোছা. হাবিবা ইয়াসমিন চমককে (৩০) দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেন। কিন্তু ওই নারী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রিয়াদ। পরবর্তী সময়ে চমকের বিয়ে হলেও তাকে উত্ত্যক্ত করা বন্ধ করেননি তিনি।

মামলার বাদীর অভিযোগ, রিয়াদের অব্যাহত উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একপর্যায়ে চমকের প্রথম সংসার ভেঙে যায়। এরপরও তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চমকের বাবা দুলাল হোসেন ও তার ছেলে কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ির বাইরে যান। ওই সময় বাড়িতে চমক ও তার মা অবস্থান করছিলেন।

এ সুযোগে অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেন তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের নিয়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে তাদের বাড়িতে আসেন। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা চাকু, ছোরা, রামদা ও লোহার রড দেখিয়ে মা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দেন। একপর্যায়ে চমককে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মা-মেয়ে চিৎকার শুরু করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে রিয়াদ চেতনানাশক ওষুধ মেশানো রুমাল দিয়ে চমকের মুখ চেপে ধরেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।

ঘটনার পর মেয়েকে উদ্ধারের আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে যান দুলাল হোসেন। কিন্তু সেখানে মেয়ের সন্ধান পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো হুমকির মুখে পড়েন বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা পুনরায় তাদের বাড়িতে গেলে মারধর করে হত্যা এবং মরদেহ গুম করার হুমকি দেন। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা করতে যান দুলাল হোসেন। তবে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় বলে তার অভিযোগ। পরে ২২ সেপ্টেম্বর নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা করেন তিনি।

মেয়ের সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা বাবা দুলাল হোসেন। ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

দুলাল হোসেন বলেন, ‘ঘটনার এত দিন পার হলেও মেয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আসামিরা ওকে আটকে রেখে নির্যাতন করছে, নাকি মেরে লাশ গুম করেছে, তা নিয়ে আতঙ্কে আছি। অবিলম্বে মেয়েকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবার থানায় আসার পর তাদের আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাই আদালতের আদেশ হাতে পেলেই তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ শুরু হবে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন মামলার বাদী। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অপহরণের অভিযোগের ২৪ দিন পরও মেয়ের সন্ধান না পাওয়ায় দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa