
সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎ নেই; পানিতে তলিয়েছে ফসল, দুশ্চিন্তায় পরীক্ষার্থী
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও দমকা হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে একাধিক স্থানে সেতু ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বহু এলাকায় চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
উপজেলার নাজিরহাটের কুম্ভারপাড়া, ফটিকছড়ি পৌরসভা, রোসাংগীরি ইউনিয়নের শাহচৌহমনী, সুয়াবিলের টেকের দোকান এলাকা, খিরাম, লেলাং, সুন্দরপুর, হারুয়ালছড়ি ও নারায়ণহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতে বহু স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতে কারণে বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছে । এতে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
দাঁতমারা ইউনিয়নের হোসেনের খিল এলাকায় একটি রাবার গাছ পড়ে রুবেল নামে এক প্রতিবন্ধীর ঘর ভেঙে গেছে। অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে কৃষিজমিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নারায়ণহাটের শ্বেতছড়া এলাকায় কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় কৃষক মো. গোপরান বলেন, “কাটা ধান জমিতেই ছিল, পাহাড়ি ঢলের পানিতে সব ভেসে গেছে।”
ভারী বর্ষণে নারায়ণহাটের পশ্চিম চান্দপুর মাইজকান্দি এলাকায় বালুখালী খালের ওপর একটি সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া হালদাকুল হাড়িঘাটা এলাকায় কাঠের তৈরি একটি ব্রিজও পানির স্রোতে ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিপুরা পাড়া থেকে নতুন পাড়া হয়ে এলাহি নুর চা বাগান পর্যন্ত সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়ক অবহেলিত। বিকল্প সড়ক না থাকায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটুসমান কাদা-পানির মধ্যে দিয়েই চলাচল করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। এমনকি কাদায় আটকে পড়া একটি অ্যাম্বুলেন্স কয়েকজন যুবকের সহায়তায় ধাক্কা দিয়ে পার করার ঘটনাও ঘটেছে।
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বলেন, “আমার এলাকায় কিছু সড়ক কাদায় ভরে গেছে। দুর্গম এলাকার মানুষদের নিরাপদে থাকার জন্য বলা হয়েছে।”
নাজিরহাটের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, "ঝড়-তুফানে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। দুই দিন ধরে কাজে যেতে পারিনি।''
সুয়াবিলের ইয়াছমিন আকতার বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করতে বের হয়েও ঝড়ের কারণে আটকে পড়েছি।”
এদিকে ভারী বৃষ্টিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও উদ্বেগে রয়েছেন। পরীক্ষার্থী সালমা বলেন, “এভাবে বৃষ্টি হলে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়া-আসা খুব কষ্টকর হয়ে যাবে। বিদ্যুৎ না থাকায় আরও সমস্যায় পড়ছি।”
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের অনেক ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী কাঠের ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙে গেছে। কিছু জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
![]()









