- - -

সকালের সিআরবি: সবুজ বাতাসে প্রাণের জাগরণ ও সাউন্ড হেলথের প্রভাতযাত্রা

Print News

সকালের সিআরবি: সবুজ বাতাসে প্রাণের জাগরণ ও সাউন্ড হেলথের প্রভাতযাত্রা

মো: কামাল উদ্দিন

ভোরের প্রথম আলো যখন নগরীর ধুলোবালির উপর দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে যায়, তখন সিআরবির বিশাল বৃক্ষরাজির নিচে এক নতুন দিনের জন্ম হয়। পাখিরা ডেকে ওঠে, পাতার ফাঁকে শিশির কণারা ঝলমল করে—প্রকৃতি যেন তার নিঃশব্দ প্রার্থনা পাঠ করে মানুষের জন্যে। এই শান্ত সকালেই আমরা—‘সাউন্ড হেলথ’-এর হাঁটাপ্রেমীরা—মিজান ভাইয়ের নেতৃত্বে শরীর ও মনের নবজাগরণের এক সার্থক আচার পালন করি।
আজকের সকালটা ছিল অপূর্ব। হালকা মেঘ, বাতাসে সবুজ পাতার গন্ধ, আর নিঃশব্দ আনন্দে ভরে থাকা সিআরবি—যেন প্রকৃতির কোলে এক টুকরো পরম শান্তি। হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল, নগরের ব্যস্ততা, রাজনীতি, কোলাহল, সবকিছু থেকে মুক্তি পেয়ে আমরা যেন এক নবজীবনের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি।
প্রথমেই কৃতজ্ঞতা জানাই ‘সাউন্ড হেলথ’-এর পক্ষ থেকে সেই সকল মানুষদের, যারা সকালে ঘুম ভেঙে ঘাম ঝরাতে আসেন। এটা শুধু হাঁটা নয়—এ যেন জীবনের প্রতি এক দায়িত্ব, নিজের শরীরের প্রতি ভালোবাসা। কারণ আমরা জানি, শরীর ভালো থাকলে মন ভালো থাকে, আর মন ভালো থাকলে জীবনও হাসে।
মিজান ভাইয়ের নেতৃত্বে ব্যায়ামচর্চা সত্যিই এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। তিনি শুধু শরীরের প্রশিক্ষক নন—তিনি জীবনেরও এক শিক্ষক। তাঁর কণ্ঠে যখন ভেসে আসে দৃঢ় নির্দেশনা—“সকালে সাড়ে ছয়টার মধ্যে সবাই হাজির থাকবেন, অলসতা নয়”—তখন মনে হয়, এ এক ডাকে আমাদের মনও জেগে ওঠে।
ব্যায়ামের প্রতিটি ধাপে তাঁর মধ্যে যে নিষ্ঠা, তাতে সবাই মুগ্ধ। কখনো তিনি হাস্যরসের সুরে বলেন, “শরীর যদি না নড়ে, জীবনও থেমে যায়!”—সবাই তখন একসাথে হাসি আর ঘামে ভিজে যায়, কিন্তু সেই হাসির মধ্যে লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য আনন্দ, এক অজানা শান্তি।
আজকের দিনটা বিশেষ। হাঁটাহাঁটির শেষে আমরা সবাই জড়ো হলাম সেই বিশাল শিশু গাছের নিচে। পাখির ডাক, বাতাসের মৃদু ছোঁয়া, আর আমাদের মধ্যে একাত্মতার স্রোত। কিছুক্ষণ আড্ডা, হাসি, গল্প, কৌতুক—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, এ এক পরিবারেরই সমাবেশ। মিজান ভাইয়ের কণ্ঠে ঘোষণা এলো—
“সুস্থ জীবন চাইলে সকালে উঠুন, হাঁটুন, ব্যায়াম করুন, অলসতা পরিহার করুন। সুন্দর জীবন গড়ার শুরু হয় সকাল থেকেই।”
সবাই সম্মতিসূচক মাথা নাড়লো, কেউ কেউ হাসিমুখে বলল—
“সকালের এই বিশুদ্ধ হাওয়া আর সবুজের ছায়া, এই সিআরবির মতো জায়গা পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।”
নগরের বিষাক্ত বাতাস, গাড়ির কালো ধোঁয়া আর কংক্রিটের দেওয়ালের ভেতর আটকে থাকা জীবনের মাঝে এই সিআরবি যেন এক মুক্তির নিঃশ্বাস। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়—প্রকৃতি এখনো আমাদের মায়ের মতো, তিনি এখনো নিঃস্বার্থভাবে অক্সিজেন বিলিয়ে দিচ্ছেন সন্তানদের মাঝে।
আজকের সকালের আরেক বিশেষ মুহূর্ত ছিল আমাদের প্রিয় সহযাত্রী কামরুন নাহার আপার হাতে ধরা ক্যামেরা। তাঁর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধরা পড়েছে আমাদের পরিশ্রম, হাসি, ঘামের আলো। তিনি শুধু ভিডিও ধারণ করেননি, আমাদের এই প্রভাতযাত্রাকে স্থায়ী স্মৃতিতে রূপ দিয়েছেন। শুনেছি, তাঁর স্বামীও ভিডিও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত—বুঝলাম, সৌন্দর্য আর সৃজনশীলতা তাঁদের রক্তে মিশে আছে। তাঁর মায়াবী চোখে ফুটে ওঠে এক ধরণের কোমল দৃষ্টি—যা ছবির মধ্যেও প্রাণ ঢেলে দেয়।
সবশেষে বলতে হয়—আজকের সকাল যেন এক কবিতা। এই সবুজ ভূমি, প্রকৃতির এই নির্মল আহ্বান, আর আমাদের একত্রতার উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে যেন জীবন নতুন করে শিখিয়ে দিল, “স্বাস্থ্যই সুখের মূল।”
আমি প্রতিদিনের মতো হাঁটাহাঁটি শেষে কলম হাতে নিলাম। আজকের সকালের অনুভূতি লিখতে গিয়ে বুঝলাম—জীবন কত সুন্দর হতে পারে, যদি আমরা সকালটাকে ভালোবাসতে শিখি।
আর হ্যাঁ, শহরে এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে আমার রম্যরচনা—“কুত্তার রানি”! মানুষ নানা দৃষ্টিকোণ থেকে তা ব্যাখ্যা করছে, কেউ হাসছে, কেউ ভাবছে। কিন্তু আজকের এই সকাল আমাকে মনে করিয়ে দিল—সত্যিকারের রানি হচ্ছে সেই মানুষ, যে নিজের শরীর ও মনকে জয় করতে পারে।
শুভ সকাল—সিআরবির সবুজে থাকুক আমাদের প্রাণ, থাকুক আমাদের স্বপ্নের জাগরণ।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa