- - -

মাধবপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুতে পুলিশ সুপারের কাছ নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন

img 20261028 wa0289
Print News

মাধবপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যুতে পুলিশ সুপারের কাছ নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন

হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আকলিমা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর এনিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন এক মানবাধিকারকর্মী।
আবেদনকারী নুরুল হুদা চৌধুরী (ইলিয়াস) আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি। আবেদনে তিনি আকলিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, থানায় অভিযোগ গ্রহণ ও পরবর্তী কার্যক্রম যাচাই, কথিত সালিশ ও আপস-মীমাংসায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত এবং নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাধবপুর উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের পৈলাবাড়ি গ্রামের আকলিমা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের চান মিয়া চৌধুরীর প্রায় ১৬ বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। আকলিমার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। স্বামী চান মিয়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউরোপে যাওয়ার জন্য স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি এবং ওই টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নির্যাতনের সঙ্গে আকলিমার মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে পড়লে আকলিমাকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মাধবপুরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাঁর লাশ দাফন করা হয়েছে উল্লেখ করে আবেদনকারী মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, মৃত্যুসনদ ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন।
আবেদনে সংবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, গত ২১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ২টার দিকে হবিগঞ্জ আইনজীবী সমিতির শিক্ষানবিশ আইনজীবী কামাল খান মাধবপুর থানায় উপস্থিত হয়ে আকলিমার ভাই সুমন চৌধুরীকে বাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ তৈরি করান। ওই অভিযোগে চান মিয়া চৌধুরী, তাঁর বোনজামাই জালাল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, কামাল খান পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে চান মিয়া চৌধুরীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন এবং তাঁকে সারা রাত থানায় রাখা হয়। পরে কী আইনগত প্রক্রিয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী। এ জন্য থানার সাধারণ ডায়েরি, অভিযোগ গ্রহণের রেজিস্টার, মামলাসংক্রান্ত নথি ও হাজত রেজিস্টার যাচাইয়ের অনুরোধ করা হয়েছে।
আকলিমার লাশ দাফনের পর স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে সালিশ ও আপস-মীমাংসা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাতিয়াইন গ্রামের নানু মিয়া, সেলিম মিয়া, কবির খান চৌধুরীসহ কয়েকজনের নাম আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে মধ্যস্থতা করা হয়েছিল এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্ট্যাম্পে সমঝোতার শর্ত লিখে তা গোপন রাখা হয়েছে। তবে কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবেদনকারী সালিশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সমঝোতার শর্ত এবং কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার প্রকৃতি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আকলিমার পরিবারের অভিযোগ, মামলা-মোকদ্দমায় না জড়ানোর জন্য তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ অভিযোগ যাচাই করে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন আবেদনকারী।
নুরুল হুদা চৌধুরী (ইলিয়াস) বলেন, কাউকে আগাম অপরাধী সাব্যস্ত করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টির মানবিক ও আইনগত গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa