- - -

নারী নিগ্রহ বন্ধ ও ন্যায়বিচারের দাবীতে, ঐতিহাসিক ছাত্র শহীদ দিবসের- ছাত্র সমাবেশ ও মহামিছিল

Print News

নারী নিগ্রহ বন্ধ ও ন্যায়বিচারের দাবীতে, ঐতিহাসিক ছাত্র শহীদ দিবসের- ছাত্র সমাবেশ ও মহামিছিল

 

আজ ২রা সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার , কলকাতার বই পাড়া, কলেজ স্কোয়ারের সংযোগস্থলে, এ আই ডি এস ও – পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির আহবানে, ১লা সেপ্টেম্বর সোমবার, ঠিক দুপুর বারোটায়, হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতিতে, ঐতিহাসিক ছাত্র শহীদ দিবসে ছাত্র সমাবেশ ও মহামিছিল করলেন।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন- কমরেড বিশ্বজিৎ রায়, কমরেড মনিশঙ্কর পট্টনায়ক, কমরেড অজয় খামটা, কমরেড শামসুল আলম, অনুমিতা পানি সহ বিভিন্ন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা।

সভা শুরুর আগে, শহীদ বেদীতে মাল্যদান এর মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়, সমাবেশ শুরুর সাথে সাথেই তীব্রভাবে প্রতিবাদ জানাতে থাকে, এবং ধিক্কার জানাতে থাকে দেশের অসামাজিক কাজকর্ম ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার জন্য, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তিরস্কার করতে থাকেন। শুধু তাই নয় এই শহীদ দিবসে তারা বেশ কিছু দাবী তুলে ধরেন। এবং দাবী গুলি অবিলম্বে পূরণ করার জন্য সরকারকে চাপ দেন। এবং বুঝিয়ে দেন আজকের সমাবেশে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে , আজ তারা সমস্ত কিছু থেকে বঞ্চিত, শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, দুর্নীতিতে ভরে গেছে। টাকার বিনিময়ে শিক্ষা বিক্রি হচ্ছে, অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে, অযোগ্য শিক্ষকরা স্থান পাচ্ছে। আজ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সেই মানচিত্র, গ্রামে গঞ্জে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা বন্ধ হতে বসেছে , স্কুলে স্কুলে শিক্ষক নাই, যোগ্য শিক্ষকরা স্কুলে চাকরি পাচ্ছে না, রাস্তায় বসে ধরনা দিচ্ছেন,আর দেশে চলছে নারী নিগ্রহ ধর্ষণ খুন, সবকিছু নিয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, অথচ আমরা ন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, আমাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।, আমাদের রাজ্যসম্পাদক মন্ডলী সদস্য কমরেড কল্লোল বাগচী সহ চারজনকে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে।, তবু আমাদের আন্দোলন থামাতে পারেনি। আজকের ঐতিহাসিক সমাবেশ মহা মিছিল প্রমাণ করে দিয়েছে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী উপস্থিতিতে। যাহারা আজকের ভবিষ্যৎ। বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার ছাত্র আজ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন, আমরা তাদেরকে কুর্নিশ জানাই। জল ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তারা এই সমাবেশে এসেছে।

সমাবেশ শেষে দুপুর দুটো নাগাদ কলেজ স্কয়ার থেকে বিশাল মিছিল আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় হিন্দ সিনেমা, এস এন ব্যানার্জি রোড, ধর্মতলা ডরিনা ক্রসিং হয়ে রানী রাসমণি রোডের দিকে, এবং সেখানেই সমাপ্ত করেন।

শহীদ দিবসে ও শহীদ স্মরণে তাহাদের দাবীগুলি হলো…….

সমস্ত প্রান্তিক এলাকায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

মিথ্যা মামলায় এ আই ডি এস ও র রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী সদস্য কমরেড কল্লোল বাগচী সহ চারজন সংগঠনের সদস্যকে নিঃস্বার্থে মুক্তি দিতে হবে।

ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে দুর্নীতি থ্রেট কালচার সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করে , গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার্থে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে।

যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের সম্মানের সাথে স্কুলে ফেরাতে হবে।।

উচ্চ শিক্ষার প্রাণসত্বা ধ্বংসকারী মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কোর্স বাতিল করতে হবে।

গণপরিবহন ছাত্র কন্সেশন চালু করতে হবে,

শিক্ষা ধ্বংসের নীল নকশা- জাতীয় শিক্ষানীতি কুড়ি, রাজ্য শিক্ষানীতি ২৩ বাতিল করতে হবে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া হোস্টেল সহ সমস্ত ধরনের স্টাইপেন্ড অবিলম্বে চালু করতে হবে।

অবিলম্বে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করতে হবে।।

ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়মিত ক্যাম্পেজিং করতে হবে।

আরজিকর থেকে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে ভয়াবহ নারী নির্যাতনের ন্যায়বিচার দিতে হবে।

সরকারি স্কুল বন্ধের চক্রান্ত বন্ধ করে ,পাশ ফেল চালু করে, উচ্চমাধ্যমিক সেমিস্টার বাতিল করতে হবে।

নন নেট ফেলোসিপ বন্ধ করা যাবে না, গবেষণার শেষে কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে হবে।

আজকে শহীদ স্মরণে এই সকল দাবী গুলি তুলে ধরেই, তারা এই সমাবেশ ও মহা মিছিল করলেন, এবং জানিয়ে দিলেন, যতদিন না ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যা দূর হচ্ছে এবং নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে , আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে ছিলাম আছি।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa