- - -

বালুখালীতে মহাসড়ক দখল করে বসে বাজার, সরকার নির্ধারিত জায়গায় অবৈধ দোকান

Print News

বালুখালীতে মহাসড়ক দখল করে বসে বাজার, সরকার নির্ধারিত জায়গায় অবৈধ দোকান

 

টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়ক লাগোয়া শত বছরের ঐতিহ্যবাহী উখিয়ার বালুখালী হাট বাজার। পানের জন্য বিখ্যাত এই বাজারে দুর দুর্দান্ত থেকে প্রতিদিন ছুটে আসে হাজারো মানুষ।

কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী ‘বালুখালী’ এখন জনদুর্ভোগের অপর নাম।

ব্যস্ততম মহাসড়কের উপরে আইনের তোয়াক্কা না করে এখানে চলে নিত্যদিন পানের বেচাকেনা, তীব্র যানজট তৈরির পাশাপাশি দেখা দেয় অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দূর্ঘটনার শংকাও।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি করেন স্থানীয় বাসিন্দা রুমেনা আক্তার, সকালে কর্মস্থলে যাত্রার পথে তাকে পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

তিনি বলেন, ‘ রাস্তার উপরে এভাবে বাজার বসিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে নেই। যানজট লেগেই থাকে, প্রায় দেরি হয়ে যায় অফিসে প্রবেশ করতে।’

স্থানীয় পান ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন বলেন, ‘ আমরা এখানে বসতে চাই না, কিন্তু পুরনো জায়গায় এখন দালান উঠে গেছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করলে মানুষের গালি শুনতে হতো না।’

এই বাজারের অধিকাংশই সরকারী জায়গা চলে গেছে অন্যের দখলে। জানা গেছে, পুরোনো বাজারের পান বিক্রির নির্ধারিত জায়গাটি দখলে রেখেছেন স্থানীয় আব্দুর রশিদের পুত্র ফজল করিম এবং তিনি সেখানে নির্মাণ করেছেন দোকানপাট।

এই বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে ফজল করিম ফোন ধরেননি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ বাজারের সব জায়গা দখল হয়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত এসব জায়গা দখলমুক্ত করে বাজার সংস্কার করা।’

পানের বাজার থেকে ইজারাদারের হয়ে অর্থ আদায় করেন স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাকিম।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি নির্ধারিত ইজারা মূল্যের চেয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে ৩০/৪০ শতাংশ বেশি টাকা চাপ প্রয়োগ করে আদায় করেন।

তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং মহাসড়কের উপর বাজার বসানো প্রসঙ্গে প্রতিবেদক’কে বলেন, ‘ উখিয়ার এমন কোনো বাজার নেই যেখানে যানজট হয়না, আপনি কুতুপালংয়ে গিয়ে দেখেন সেখানে অবস্থা বেশি খারাপ। আর আমাদের বাড়তি কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই, এগুলো অপপ্রচার।’

এপ্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ ইতিমধ্যে তহসিলদারকে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলার জন্য। আশা করছি কোনো একটা ফলাফল পাওয়া যাবে।’

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নে অবস্থিত এই বাজারে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভোক্তাদের মধ্যে অধিকাংশই রোহিঙ্গা, কারণ আশেপাশে রয়েছে দশটির কাছাকাছি ক্যাম্প।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa