
২২শে আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী বাসভবন অভিযান ও ডেপুটেশনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক সম্মেলন
আজ ১৮ই আগস্ট সোমবার, ঠিক দুপুর দুটো পঁয়তাল্লিশ মিনিটে, কলকাতা প্রেস ক্লাবে, এ আই ইউ টি ইউ সি অনুমোদিত, পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়ন ও পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যকর্মী কন্ট্রাকচুয়াল ইউনিয়ন এর যৌথ উদ্যোগে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করলেন।
২২শে আগস্ট ২৫, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে অভিযান ও ডেপুটেশন এর বার্তা দিতেই এবং আশা কর্মীদের যে দাবি দাওয়া ও সেই আলোচনায় বসতেই মুখ্যমন্ত্রীর সহিত , এই নিয়েই আজকের সাংবাদিক সম্মেলন করলেন।
সাংবাদিক সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন, আশা কর্মী ইউনিয়নয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন, সভানেত্রী কৃষ্ণা প্রধান, জেলা প্রেসিডেন্ট মধুমিতা মুখার্জি, উপস্থিত ছিলেন পাপিয়া দত্ত চৌধুরী, শ্রীমতী পৌলমী সহ অন্যান্যরা।
আজকের মূল বিষয় ছিল , দীর্ঘদিন ধরে তারা তাদের দাবী নিয়ে আন্দোলন করলেও, তারা সব কিছু থেকে বঞ্চিত, হাজারো ডেপুটেশন দিয়ে কোনো ফল হয় না , সরকার চুপ করে আছেন , রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার। আমরা প্রায় আঠারো বছর ধরে সামান্য মাইনেতে কাজ করে চলেছি, মাত্র ৫২০০/ টাকায় , এবং আমাদেরকে দিয়ে সমস্ত রকম কাজ করিয়ে নেয়, এমনকি বেশ কিছু কাজ বিনা পারিশ্রমিকেও করতে হয় , অথচ সরকার আমাদের অন্য কোনো রকম সুযোগ সুবিধা দেয় না , এমনকি সরকারি স্বীকৃতি। আমরা নিজেদের জীবন বিপদের সম্মুখে ফেলেও বাড়ীর সবার কথা ভুলে কাজ করেছি, সরকার আমাদের এর জন্য যা যা দেওয়ার কথা ছিল আজ পর্যন্ত একটা কিছু দেয়না , এমন কি যদি কেউ অসুস্থ হয়ে এক মাস পুরো কাজ না করতে পারতো তাদের মাইনে কেটে নেওয়া হতো।
আপনারা এও জানেন, ন্যাশনাল হেলথ মিশনের অন্তর্ভুক্ত আশা প্রকল্প, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৭৫ হাজার মহিলা কর্মী এই কাজে যুক্ত আছে, আমাদের দ্বারা এই প্রকল্প একটা জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছে, শহরাঞ্চলে প্রত্যেক পৌরসভা এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা দিয়ে চলেছে, ইউ ডি এম এ এবং এস ইউ ডি এর অধীনে প্রায় ১০ হাজার এইচ এইচ ডব্লিউ, মা ও শিশুর মৃত্যুর হার কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আশা কর্মীরা গ্ৰাম ও শহরে। তবুও সরকার আমাদের নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ নাই, আজ আমরা সংসার চালাতে ও ছেলে মেয়েদের পরাশুনা চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।
তাই আমরা আমাদের দাবী নিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়েছি, অবিলম্বে আমাদের দাবী পূরণ করতে হবে, নচেৎ আমরা আরো বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবো।
আমাদের দাবী,…..গ্ৰাম ও শহরে র আশা কর্মীদের সরকারি স্বীকৃতি দিতে হবে।
নূন্যতম মজুরি পনেরো হাজার ও ছাব্বিশ হাজার করতে হবে,
অন্যান্য সরকারি অফিসের নিয়ম অনুযায়ী সমস্ত ছুটি ঘোষণা করতে হবে।ইনসেনটিভ এর টাকা ভাগে ভাগে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।
প্রতি মাসের মজুরি,প্রতি মাসে মিটিয়ে দিতে হবে, মোবাইল এর টাকা প্রত্যেকের একাউন্টে পাঠাতে হবে।
মাতৃত্ব কালীন ছয় মাস ছুটি দিতে হবে, কোনো রকম মাইনে কাটা যাবে না। অবসর সময়ে ৫ লক্ষ্য করে টাকা আশা কর্মীদের দিতে হবে।
তারা বলেন সরকার খেলা মেলা পূজার জন্য টাকা দিতে পারছেন, অথচ যারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে পরিষেবা দিচ্ছে, স্বাস্থ্যের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়, তাদের সব কিছুতেই বঞ্চিত করছে। আর হতে দেবো না,।
তাই আমরা ২২শে আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী বাসভবনে অভিযান ও ডেপুটেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাসবিহারী মোড় থেকে হাজারা কালীঘাট।
আর এর নাম দিয়েছি —–মানবিক যাত্রা । এই যাত্রায় পাহাড় থেকে জঙ্গল, সব আশা কর্মীদের আসার আহ্বান জানিয়েছি এবং মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য।
![]()









