- - -

জাল সনদের আড়ালে বোয়ালখালীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল: মুখোশ খুললো তথাকথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ আলীর

Print News

জাল সনদের আড়ালে বোয়ালখালীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল: মুখোশ খুললো তথাকথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ আলীর

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার উত্তর গোমদণ্ডী উচ্চবিদ্যালয়ে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে থাকা তথাকথিত সাংবাদিক মোহাম্মদ আলীর আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির নামে জাল অনার্স সনদ জমা দিয়ে তিনি এই পদটি দখল করেছিলেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সরাসরি তদন্তে সনদটি জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তদন্তের বিবরণ-২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার অফিসে গিয়ে মোহাম্মদ আলীর প্রদত্ত সনদের সত্যতা যাচাই করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে এমন কোনো সনদধারীর নাম না থাকায় সেটি সরাসরি জাল বলে ঘোষণা করা হয়।
এরপর ৬ আগস্ট বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়—মোহাম্মদ আলীর অনার্স সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আইনের চোখে অপরাধ
বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী—ধারা ৪৬৮: প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।ধারা ৪৭১: জাল কাগজপত্র জেনে-শুনে ব্যবহার করলে তা প্রকৃত কাগজপত্রের মতোই অপরাধ ধরা হবে।
এই আইনের আলোকে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে শুধু পদচ্যুতি নয়, ফৌজদারি মামলা দায়ের ও শাস্তি হওয়াই যথাযথ।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী থেকে ‘সভাপতি’ হওয়ার গল্প
তদন্তে আরও জানা যায়, মোহাম্মদ আলী অতীতে একটি মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেল খেটেছেন। এরপরও তিনি বহু বছর ধরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ফোরামের দায়িত্বশীল আসনে থেকেছেন। বর্তমানে তিনি প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে এমন প্রভাব বিস্তার করছেন যে, বহু সিনিয়র ও সম্মানিত সাংবাদিককেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন।
তার ক্ষমতার পেছনে রয়েছেন বর্তমান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রশ্রয় দিয়ে এসেছেন। একইসাথে চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স ফোরামেও তিনি এক প্রকার ‘হর্তা-কর্তা’র ভূমিকায় রয়েছেন।
প্রশ্ন উঠছে—দায় কার?
সাংবাদিকতার পবিত্র পেশায় কীভাবে এমন একজন ব্যক্তি এতদূর প্রবেশ করতে পারলো? উত্তর লুকিয়ে আছে পেশার ভেতরের সুবিধাবাদী একটি চক্রে। এরা অপরাধীদের আশ্রয় দেয়, পদোন্নতিতে সহায়তা করে, আর বিনিময়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। এর ফলেই জন্ম নেয় সাংবাদিকতার ছদ্মবেশী মাফিয়া নেটওয়ার্ক।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় করণীয়-শিক্ষা বোর্ড চাইলে এই ঘটনায়—জাল সনদ মামলায় সরাসরি পুলিশে চার্জশিটের সুপারিশ করতে পারে,সংশ্লিষ্ট মনোনয়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারে, বিদ্যালয়কে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিশেষ নজরদারিতে রাখতে পারে
মোহাম্মদ আলীর মুখোশ উন্মোচন কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়—এটি সাংবাদিকতা ও শিক্ষার মর্যাদা রক্ষার লড়াই। আজ বোয়ালখালীতে যা ঘটেছে, তা যেন আগামীকাল আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সাংবাদিক সংগঠনে না ঘটে। যদি সাংবাদিক সমাজ এখনই আত্মশুদ্ধির পথে না হাঁটে, তবে একদিন ‘সাংবাদিক’ শব্দটি সম্মানের বদলে অবিশ্বাস ও বিতৃষ্ণার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa