
প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ‘পাঁচকড়ি জমিদার বাড়ি’ আজ ধ্বংসপ্রায়!
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আমান বাজারের পাঁচকড়ি চৌধুরী এলাকায় ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় দুই শতাব্দী পুরনো একটি জমিদার বাড়ি — ‘পাঁচকড়ি জমিদার বাড়ি’ নামে পরিচিত এই ভবনটি একসময় ছিল বনেদি ঐতিহ্যের প্রতীক।
এই দ্বিতল পাকা ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার অর্পনা জয়ন রায়চৌধুরী। পরবর্তীতে তার পুত্র পাঁচকড়ি রায়চৌধুরী (উপনাম মনমোহন রায়চৌধুরী) এর নামেই এটি পরিচিতি লাভ করে। এই জমিদার বাড়ি শুধু স্থাপত্য নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত নিদর্শন।
আমরা কথা বলেছি বাড়িটির চতুর্থ প্রজন্মের উত্তরাধিকারী অংশুমান রায়চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানান, তাদের এক পূর্বপুরুষ, রাজপুত্র লালা-লাল চন্দ্র রায়, তৎকালীন মুঘল ভারতের পাঞ্জাব অঞ্চল থেকে এ অঞ্চলে এসেছিলেন বলে পারিবারিক ইতিহাসে জানা যায়।
এই জমিদার বাড়ির সম্মুখভাগে রয়েছে একটি বিশাল দীঘি — ‘পাঁচকড়ি চৌধুরী দিঘী’, যার সৌন্দর্য অতীতের ঐশ্বর্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। দীঘির পাশেই রয়েছে পুরনো একটি শিব মন্দির ও পূজার ঘর।
জমিদার বাড়িটির মূল অংশ দুটি — বসতবাড়ি ও মজলিস হল (বা বৈঠকখানা)। এই বৈঠকখানাতেই এক সময় এলাকার জনসাধারণের নানা বিচার-বিবেচনা, ধর্মীয় আচার, সামাজিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতো।
তবে দুঃখজনক এক পারিবারিক তথ্য জানিয়েছেন অংশুমান রায়চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পরিবারের অনেক পুরুষ সদস্যই দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমরা কামনা করি, এই অশুভ ধারাটি তার প্রজন্মে এসে ভেঙে যাবে।
বর্তমানে এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি অযত্নে-অবহেলায় ধ্বংসের মুখে। স্থানীয়রা এবং জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারীরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন —
এই জমিদার বাড়ি সংস্কার করে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা হোক, পরিবারের তত্ত্বাবধানে।
এই বাড়িটি শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও অংশ।
এখন সময়, এই হারিয়ে যাওয়া অতীতকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার।
![]()









