
জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকারে তাজকিন আহমেদ চিশতী: নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে পৌরসভায় গণশুনানি
নাগরিক দুর্ভোগ লাঘব ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী গণশুনানি। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাতক্ষীরা পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত এই শুনানিতে পৌর এলাকার নানা স্তরের জনগণ সরাসরি তাদের মতামত ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতী। তিনি বলেন, “এই পৌরসভা কোনো গোষ্ঠী বা শ্রেণির নয়, এটি জনগণের। আমি জনগণের জন্যই কাজ করতে চাই। নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”
সম্প্রতি অতিবর্ষণে সাতক্ষীরা পৌরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শহরের বাসিন্দারা পানিবন্দী অবস্থায় চরম দুর্ভোগে দিন পার করছেন। গণশুনানিতে নাগরিকরা সরাসরি এসব দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
তাদের মূল অভিযোগ ও দাবি ছিলÑ জলাবদ্ধ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন। সুপেয় পানির সংকট সমাধান। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আলো ব্যবস্থা চালু করা। বাজেটের অপব্যবহার বন্ধ করা। ভুয়া পানির বিল ও বেআইনি পৌর ট্যাক্স বৃদ্ধির অবসান। সরকারি ভাতা ও টিসিবি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা। মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ ও ফগার মেশিনের নিয়মিত ব্যবহার এবং সকল নাগরিক সেবা যথাযথভাবে পরিচালনার দাবি।
পৌর নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে দরকার সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হয় না, অথচ ফুলবাগান বা তথাকথিত বিচার কক্ষের নামে কোটি কোটি টাকা ভুয়া বিল দেখিয়ে লোপাট হয়।”
তাজকিন আহমেদ চিশতী শুনানিতে বলেন, “পৌর বাজেট যেন নাগরিক প্রয়োজনেই ব্যয় হয়, অপ্রয়োজনীয় খাতে নয়। উন্নয়নের নামে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে আমি শক্ত অবস্থান নেব।”
তিনি আরও বলেন, “ড্রেনেজ, সড়ক, আলো, পানি ও স্বাস্থ্যÑ সব মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে পৌরসভার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা প্রয়োগে অনিয়ম হচ্ছে। আমি এসবের বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিকদের সাথে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই।”
গণশুনানির আগে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তাজকিন আহমেদ চিশতী সকল নাগরিককে গণশুনানিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিক, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা এই শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন।
এই গণশুনানির মাধ্যমে একটি বার্তা পৌঁছেছেÑ নাগরিক সেবা নিয়ে আর কোনরকম অবহেলা সহ্য করা হবে না। সভা শেষে তাজকিন আহমেদ চিশতী জানান, “জনগণের পরামর্শ নিয়ে আমরা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজাবো। প্রয়োজনে নাগরিক ফোরাম গঠন করে নিয়মিত মতবিনিময় ও তদারকি চালানো হবে। এই গণশুনানি প্রমাণ করে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির চর্চাই পারে সুশাসনের ভিত গড়ে তুলতে।”
![]()









