- - -

স্ত্রীকে হত্যাকালে ছেলে দেখে ফেলায় তাকেও খুন করেন জাকির

img 20261104 wa0021
Print News

মা – ছেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন
স্ত্রীকে হত্যাকালে ছেলে দেখে ফেলায় তাকেও খুন করেন জাকির

 

যশোর বাঘারপাড়া উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ার পর ঘটনার প্রায় তিন মাসের মাথায় নিহত জুবাইদা খাতুনের স্বামী জাকির হোসেনকে গ্রেফতারে করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা করেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত জাকির উপজেলার খলশী গ্রামের জাফর শিকদারের ছেলে।

সোমবার রাত ১০টার দিকে ওই এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, গত ৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে খলশী গ্রামের দক্ষিণপাড়ার একটি বাড়ি থেকে গৃহবধূ জুবাইদা খাতুন (৩২) ও তার ৬ বছর বয়সী ছেলে জিসানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জুবাইদার মরদেহে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। একই কক্ষে ছেলে জিসানের মরদেহও পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির হাত-পা বিছানার ওপর তোয়ালে দিয়ে বাঁধা ছিল।

পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ঘটনার পর নিহত জুবাইদার ছোট ভাই জাহিদ হাসান ১০ আগস্ট রাতে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

মামলার পর পুলিশ পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাকির হোসেন প্রথমে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ সময় ছেলে জিসান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাকেও হত্যা করেন তিনি।
হত্যাকান্ডের পর জাকির হোসেন বহরামপুর বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলে যান। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় তিনি এক গৃহকর্মীকে মুঠোফোনে বাড়িতে পাঠান। গৃহকর্মী বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করে কাউকে না পেয়ে ঘরের ভেতরে মরদেহ দুটি দেখতে পান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ কুমার মণ্ডল জানান, ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকারী সন্দেহে জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, এ হত্যাকান্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত সোমবার জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে তার জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa