- - -

সামিটের টার্মিনাল বন্ধ, চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

img 20261104 wa0083
Print News

সামিটের টার্মিনাল বন্ধ, চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

 

রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজের জন্য চার দিন বন্ধ থাকছে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিটের এলএনজি টার্মিনাল। আজ ৪ নভেম্বর(বুধবার) সকাল ৮টা থেকে আগামী ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত টার্মিনালটির রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমতে পারে। ফলে চট্টগ্রামে আবাসিক, শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে নগরীর যেসব এলাকায় আগে থেকেই গ্যাসের চাপ কম, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের রান্নাবান্না নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশন, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) বলছে, পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে আবাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। যদিও সরবরাহ কমে যাওয়ায় কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কমতে পারে।
এদিকে চার দিন সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্যকে গুজব বলে উল্লেখ করেছে পেট্রোবাংলা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সামিটের এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমবে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালে আগে থেকেই নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কারণে চার দিন টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এতে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেজিডিসিএলের ডিজিএম মোহাম্মদ রফিক আহমেদ খান দৈনিক আজাদীকে বলেন, গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। আগে চট্টগ্রামে প্রতিদিন ২৫৫ থেকে ২৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। এখন তা কমে ২৩৪ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসআরএম, কেএসআরএম ও আবুল খায়েরসহ কয়েকটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিল্প খাতে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস আবাসিকসহ প্রয়োজনীয় খাতে সরবরাহের চেষ্টা করা হবে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কোথাও স্বল্পচাপ, কোথাও তীব্র স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাস না-ও থাকতে পারে। আবাসিক গ্রাহক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কেজিডিসিএল কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই আমদানিনির্ভর। এলএনজি সরবরাহ কমে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে এ অঞ্চলে। আগে আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ লাইন ব্যবহার করে সিলেট ও কুমিল্লা অঞ্চল থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস আনার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে সেই বিকল্প ব্যবস্থা নেই।
তাদের মতে, জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে দৈনিক ২৩৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব। তবে সরবরাহ কমার পাশাপাশি গ্যাসের চাপও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিশেষ করে নগরীর প্রান্তিক ও অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকার গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩৫০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে শিল্পকারখানায় ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট, আবাসিক খাতে ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট, কাফকো সার কারখানায় ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানায় (সিইউএফএল) ৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।
এ ছাড়া রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক ৪০ থেকে ৪২ মিলিয়ন ঘনফুট এবং শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৩২ থেকে ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। ফলে সামিটের টার্মিনাল বন্ধ থাকাকালে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি দেখা দিলে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa