- - -

সেবার রেকর্ড গড়ার মাঝেই ইউএইচএফপিও’র বদলির গুঞ্জন; ফুঁসছে ঘোড়াঘাটের সাধারণ মানুষ

Print News

সেবার রেকর্ড গড়ার মাঝেই ইউএইচএফপিও’র বদলির গুঞ্জন; ফুঁসছে ঘোড়াঘাটের সাধারণ মানুষ

 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ৫৯ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে যখন চিকিৎসা সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটির উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সোলাইমান মেহেদী হাসানকে অন্যত্র বদলির গুঞ্জন উঠেছে। এই খবরে হাসপাতালের কর্মচারী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
৫৯ বছরের ইতিহাসে প্রথম ওটি চালু
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. সোলাইমান মেহেদী ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের চিত্র বদলাতে শুরু করে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার ৫৯ বছর পর তার নেতৃত্বেই প্রথম অপারেশন থিয়েটার (OT) সচল ও উদ্বোধন করা হয়। একজন দক্ষ অর্থোপেডিক সার্জন হিসেবে তিনি নিজেই জটিল সব অস্ত্রোপচার শুরু করেন। এখন পর্যন্ত অর্থোপেডিক ও গাইনি বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ৭০টি বড় অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে, যা হাসপাতালটির ইতিহাসে একটি অনন্য রেকর্ড।
সেবার মানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন
আগে চিকিৎসক সংকটে ধুঁকতে থাকা এই হাসপাতালে বর্তমানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিশ্চিত করা হয়েছে। তার উদ্যোগে চালু হওয়া উল্লেখযোগ্য সেবাগুলো হলো:
সাশ্রয়ী আল্ট্রাসনোগ্রাম: বাইরে যেখানে খরচ ১২০০ টাকা, সেখানে হাসপাতালে মাত্র ২২০ টাকায় এই সেবা মিলছে।
জরুরি ঔষধ সরবরাহ: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন এবং হাঁপানি রোগীদের জন্য ইনহেলারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভ্যাকসিন ও প্যাথলজি: জলাতঙ্ক ও সাপে কাটার ভ্যাকসিন বর্তমানে হাসপাতালে মজুত আছে এবং প্যাথলজিক্যাল যন্ত্রপাতি সচল করা হয়েছে।
নতুন ইউনিট: ডেন্টাল ইউনিট চালু এবং মহিলা ওয়ার্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
জনমনে ক্ষোভ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা জালাল সরকার ও কবির হোসেন বলেন, “আগে এই হাসপাতালে নামমাত্র চিকিৎসা ছিল। এখন যে উন্নতি হয়েছে, তা এই ডাক্তারের কারণেই সম্ভব হয়েছে। তাকে সরিয়ে দিলে আমরা আবারও ভোগান্তিতে পড়ব।”
এ বিষয়ে ডা. সোলাইমান মেহেদী হাসান বলেন, “বদলি একটি সরকারি প্রক্রিয়া। তবে যেখানেই থাকি, সাধারণ মানুষের সেবা করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিন জানান, “তিনি আসার পর হাসপাতালের দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে ওটি চালু হওয়াটা বড় সাফল্য। তার বদলির কোনো লিখিত আদেশ আমি এখনো দেখিনি।”
দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আসিফ ফেরদৌস জানান, বদলির বিষয়টি অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক কাগজ তার কাছে আসেনি।
এলাকাবাসীর দাবি: জনস্বার্থে এবং হাসপাতালের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে ডা. সোলাইমান মেহেদী হাসানকে ঘোড়াঘাটেই বহাল রাখা হোক।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa