- - -

শামসুন নাহার হল নির্যাতন দিবস

Print News

শামসুন নাহার হল নির্যাতন দিবস

২৩ জুলাই, শামসুন নাহার হল নির্যাতন দিবস। ২০০২ সালের এই দিনে বিএনপি-জামায়াত সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ ও ছাত্রদলের সশস্ত্র পেটোয়া বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলে অমানবিক নির্যাতন চালায় যা তৎকালীন সরকারের দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও নারকীয় তাণ্ডবের এক কালো অধ্যায়। মেয়েদের হলের ভেতর প্রবেশ করে ছাত্রদলের ক্যাডার ও পুলিশকে দিয়ে মেয়েদের উপর চালানো মধ্যযুগীয় নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ঐতিহাসিক ও আপোষহীন প্রতিবাদ। সন্ত্রাসী সরকারের বুলেট, বেয়নেট আর লাঠিচার্জের মুখে শিক্ষার্থীরা সেদিন আর্তনাদ না করে, আর্তচিৎকার করে ওঠে অধিকার আদায়ের প্রশ্নে। ফলশ্রুতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সে সময়ের কুখ্যাত উপাচার্য ও প্রক্টর পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক বিধি-ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও অগ্রগতি ধ্বংসের কারিগর বিএনপি-জামায়াত নামক রাজনৈতিক দল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা, নির্যাতনের সেই একই মিশন ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের জঙ্গিবাদী সহিংস আন্দোলনে ব্যবহার করেছে। বিএনপি- জামায়াত এখনো অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক, ফ্যাসিবাদী সরকারের মিশন বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করার, গিনিপিগ বানানোর, কিলিং মিশন বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আজকে তারা বানিয়েছে দলীয় প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষাকে পাঠিয়েছে নির্বাসনে। জ্ঞান-গবেষণা-পঠন-পাঠনকে অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়ে আজ তারা মানুষের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার সম্পূর্ণ কেড়ে নিয়েছে। গণতান্ত্রিক মত প্রকাশের কারণের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চলছে ক্রমাগত ‘উইচ হান্টিং’।

শামসুন নাহার হল নির্যাতন দিবসে বাংলার ছাত্রসমাজ প্রত্যয় ঘোষণা করছে অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং অপশক্তির অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে শক্তিশালী করার। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বহু মতের ক্যাম্পাস, মানবিক মর্যাদা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং জ্ঞানভিত্তিক-ইতিবাচক-শুভ কাজের প্রতিযোগিতামূলক ছাত্ররাজনীতি বিনির্মাণের সংগ্রাম জয়ী হবেই হবে।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa