
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, জুরাইন,শ্যামপুরে গ্যাসের জন্য হাহাকার, বেড়েছে লাকড়ির দাম
চুলা আছে, রান্নার উপকরণও আছে শুধু নেই গ্যাস। দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক পরিবার পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় গ্যাস। বাধ্য হয়ে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, কেউ সিলিন্ডার, আবার কেউ লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে সংসারের খরচ, অন্যদিকে ধোঁয়া আর ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ জনজীবন।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী,জুরাইন, মুরাদপুর, পাটেরবাগ, দনিয়া, শ্যামপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট যেন নিত্যদিনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাসের চাপ থাকছে না। কোথাও আবার দিনের পর দিন মিলছে না গ্যাসের দেখা। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও রান্নার সময় চুলায় আগুন না জ্বলায় বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। রান্নার জন্য বাধ্য হয়ে ব্যবহার করতে হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি।
কেউ বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না করছেন, কেউ কিনছেন এলপিজি সিলিন্ডার। আবার অনেক পরিবার অতিরিক্ত খরচ করে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে গ্যাসের চাপ কম থাকলেও কোনোভাবে রান্না করা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে অনেক সময় চুলায় আগুনই জ্বলছে না।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, গ্যাসের সংকট শুধু রান্নাঘরেই আটকে নেই—এর প্রভাব পড়ছে পুরো পরিবারে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্য থাকা পরিবারগুলোকে পড়তে হচ্ছে আরও বেশি সমস্যায়।
গ্যাস না থাকায় অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে। এতে প্রতিদিনের সংসার খরচও বাড়ছে।
অন্যদিকে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে লাকড়ির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে বেড়েছে লাকড়ির দামও। ফলে এক সংকট সামাল দিতে গিয়ে আরেক দফা বাড়তি খরচের বোঝা চাপছে সাধারণ মানুষের কাঁধে।
প্রশ্ন উঠছে রাজধানীর একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দিনের পর দিন এমন গ্যাস সংকট চলবে কতদিন?
নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নার জ্বালানি নিয়ে এমন ভোগান্তির দ্রুত সমাধান চান স্থানীয়রা। তাদের দাবি, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নিতে হবে।
কারণ, গ্যাসের এই সংকট এখন আর শুধু চুলার আগুনের সংকট নয় এটি হয়ে উঠেছে হাজারো পরিবারের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সংকট।
![]()









