- - -

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন

img 20261028 wa0048
Print News

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে নগরবাসীকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিজের শহরকে ভালোবাসতে হবে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক উন্মুক্ত বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার বিকালে নগরীর ১৩ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডের আমবাগান তরুণ সংঘ মাঠে জেলা তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ কর্মসূচি সফল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। এই শহর শুধু প্রশাসকের নয়, এটি আমাদের সবার। নিজের শহরকে ভালোবাসলে শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও নিজের বলে মনে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা প্রয়োজন। শহর থাকবে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এখানে বসবাস করবে। তাই নিজেদের পাশাপাশি সন্তান ও নাতি-নাতনিদের সুস্থ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নগর পরিচ্ছন্নতা এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশাসক বলেন, বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পানির বোতল ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হতে পারে। তাই কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাড়ির আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নভেম্বর মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি, রক্তপাত কিংবা বিপজ্জনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীর চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা ও এনএসওয়ান অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি সফল করতে প্রত্যেক নাগরিককে সম্পৃক্ত হতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও মশার বংশবিস্তার রোধে নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা যুক্ত হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আমবাগান তরুণ সংঘের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাপশন- ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa