- - -

ভূমি অফিসে নাজিরের গড়মিল ৭০টাকা ! সরকারী নথি বলছে লক্ষ লক্ষ টাকা তসরুপ ?

img 20261024 wa0295
Print News

ভূমি অফিসে নাজিরের গড়মিল ৭০টাকা ! সরকারী নথি বলছে লক্ষ লক্ষ টাকা তসরুপ ?

 

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলা ভূমি অফিসের অনিয়ম গুলো এখন নিয়মে পরিনত হয়েছে। ভূমি সেবায় রয়েছে বিবিধ হয়রানী। ভূমি সেবা আধুনিকায়ন করা হলেও জটিলতা পিছু ছাড়ছে না । ভূমি সেবা গ্রহিতারা প্রতিনিয়িত নানা জটিলতায় পড়ছেন।

সম্প্রতি জেলার চারঘাট উপজেলা ভুমি অফিসে সরকারী বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে থাকলেও, থামছে না অনিয়ম আর দূর্নীতি। বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন, তাহলে রহস্য কি ? এই প্রশ্নে উত্তর খুঁজতে অনুসন্ধান শুরু করে এই পত্রিকার প্রতিনিধি।

অনুসন্ধনে ৭০শতাংশ তথ্য সংগ্রহ হলেও বাকি ৩০ শতাংশ তথ্য অদৃশ্য রয়েছে। অনেক ঘটনার সূচনা হচ্ছে কিন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। একই ভাবে অস্বীকার করেছেন গত ২০২৪-২৫ এবং ২৬ সালের সরকারী বরাদ্দের অর্থের গড়মিলের কথা।

গত ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চারাঘাট উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে ছিলেন আরিফ হোসেন এবং রাহাতুল করিম মিজান। তবে মীর মেজবাহীদুজ্জামান চৈাধুরী এই ভূমি অফিসের দায়িত্বে ছিলেন অল্প কিছু দিন। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভির আহমেদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারী বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন এবং খরচের কাজ গুলো করে আসছেন উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির কাম ক্যাশিয়ার লুৎফর রহমান সোহান। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সরকারী ভূমি অফিস সংস্কার, অফিসের কাজে ব্যবহৃত নতুন কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন এবং ইলেকট্রনিক বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় ও মেরামত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্যবহৃত গাড়ির তেল, অফিস স্টাফের নুতন পোষাক, বিভিন্ন মনিহারি, অফিসের সরঞ্জামাদি এবং মটরযানের মেরামতসহ বিবিধ কাজের বিষয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। এই অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে ভূমি মন্ত্রনালয়।

নাজির কাম ক্যাশিয়ার পদে দায়িত্বে কর্মরত রয়েছেন লুৎফর রহমান সোহান। অফিসের বিভিন্ন খরচ দেখিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । অফিস সংস্কারের কাজসহ বিবিধ ভাইচারে তিনি বিল উত্তোলন করেছেন। এই ভূয়া বিল উত্তোলনে সহযোগিতা করেন উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসের অডিটর মুর্শিদা। নাজির লুৎফর রহমান সোহান নিজেকে অফিসার বলে জাহির করেন। সে ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও, সরকারি ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তার মতো রয়েছে ভিজিটিং কার্ড, অফিসে সবার থেকে আলাদা বসার চেয়ার। প্রাইভেট কারে ভূমি অফিসে আসেন তিনি। ৩য় শ্রেনীর একজন কর্মচারী লুৎফর রহমান সোহান এর বিলাসী জীবনের নেপথ্যে উৎস কি ? এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ।

নাজির কাম ক্যাশিয়ার লুৎফর রহমান সোহান গনমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। ভূমি অফিসে অডিট হয়েছে, তারা কোন অনিয়ম পাননি। তবে তার কাছে ৭০ টাকার একটি গড়মিল পেয়েছিল, সেটাও সমাধান হয়েছে। এই অফিসের সকল কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিসের অডিটর মুর্শিদা মুঠো ফোনে বলেন, ভূমি অফিসের অনেক বিল থাকে। যার কারনে তাদের সঙ্গে প্রায় অফিসে দেখা হয়, এর বেশি কিছু না। উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস কাগজের সত্যতা দেখেই বিল পাশ করেন। সার্বিক বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখা তাদের কাজ না বলে, মন্তব্য করেন অডিটর মুর্শিদা।

এ বিষয়ে চারঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভির আহমেদ বলেন, আমি এখানে নতুন জয়েন করেছি, এসব বিষয়ে অডিট সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেন, যদি কোন অসংগতি থেকে থাকে তারা ব্যবস্থা নিবেন।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa