
ব্যক্তিত্বের প্রেম
-মাধুরী ব্যানার্জী
কলকাতার এক ছোট প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করত অনিন্দিতা। সুন্দরী ছিল না, অন্তত সমাজের প্রচলিত মানদণ্ডে নয়। কিন্তু তার কথাবার্তায় ছিল আত্মবিশ্বাস, চিন্তায় ছিল গভীরতা, আর আচরণে ছিল এক অদ্ভুত সৌন্দর্য।
একদিন সংস্থায় নতুন সম্পাদক হিসেবে যোগ দিল অর্ক। প্রথম দেখায় অনিন্দিতাকে তার বিশেষ কিছু মনে হয়নি। কিন্তু কাজের সূত্রে প্রতিদিন কথা বলতে বলতে অর্ক আবিষ্কার করল, এই মেয়েটির মধ্যে যেন এক আলাদা আলো আছে।
কোনো সমস্যায় সবাই যখন হতাশ হয়ে পড়ত, অনিন্দিতা শান্তভাবে সমাধানের পথ খুঁজে বের করত। কারও সাফল্যে সে হিংসা করত না, বরং আন্তরিকভাবে আনন্দ পেত। তার হাসি ছিল সংযত, কথাগুলো ছিল ভেবেচিন্তে বলা।
একদিন অফিসের লাইব্রেরিতে বসে অর্ক বলল, — “জানো, আমি আগে ভাবতাম প্রেম শুধু রূপ দেখে হয়।”
অনিন্দিতা মুচকি হেসে বলল, — “তাহলে এখন কী ভাবো?”
অর্ক কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিল, — “এখন বুঝি, রূপ চোখকে আকর্ষণ করে, কিন্তু ব্যক্তিত্ব হৃদয়কে বেঁধে রাখে।”
অনিন্দিতা লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিল।
কয়েক মাস পরে অর্ক তার মনের কথা জানাল। সে বলল, — “তোমার সৌন্দর্য তোমার মুখে নয়, তোমার চিন্তায়। তোমার ব্যক্তিত্বই আমাকে তোমার প্রেমে ফেলেছে।”
সেদিন অনিন্দিতা অনুভব করল, সত্যিকারের প্রেম বাহ্যিক চাকচিক্যের নয়; তা মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ ও আত্মার সৌন্দর্যের প্রতি আকর্ষণ।
এরপর তাদের জীবনের পথ এক হয়ে গেল। আর অর্ক সারা জীবন ধরে বুঝে গেল— ব্যক্তিত্বের প্রেমই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী প্রেম, কারণ সময় রূপকে বদলে দেয়, কিন্তু সুন্দর ব্যক্তিত্বের দীপ্তি কখনও ম্লান হয় না।
![]()









