- - -

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুটির পাশে দাড়াঁলেন জেলা প্রশাসক

img 20261024 wa0396~2
Print News

মা,বাবা,ফেলে রেখে চলে যায়
নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায়
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুটির পাশে দাড়াঁলেন
জেলা প্রশাসক

সাত বছরের ছোট্ট শিশু সোহানা। জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন; নিজে ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। জীবনের এই কোমল বয়সেই তাকে পার হতে হচ্ছে অবহেলা, অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্বের কঠিন সময়। অভিযোগ রয়েছে, আপনজনেরাই তাকে পরিত্যাগ করেছেন। যে বয়সে তার বাবা মায়ের কোলে থাকার কথা, সে বয়সে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। আজও আধো স্বরে বাবা-মাকে ডাকে। কিন্তু সেই ডাকের উত্তর দেওয়ার কেউ নেই!
নরসিংদী সদরে সন্ধান পাওয়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক শিশুকে তার বাবা-মা ফেলে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। আজ ২৪ অক্টোবর শনিবার জেলা প্রশাসক, নরসিংদী জনাব ইসরাত জাহান কেয়া নরসিংদীর বানিয়াছল এলাকায় সোহানাকে দেখতে যান।
শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধানেও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিভাবকদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সরকারি শিশু পরিবারে তার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও সোহানার জীবনে এক টুকরো মমতার নাম আম্বিয়া বেগম। নিজেরই দুবেলা খাবার জোটে না, তবুও ভিক্ষা করে পাওয়া সামান্য অর্থ থেকে সোহানার মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন তিনি। রক্তের সম্পর্ক নেই, নেই সামর্থ্য; আছে শুধু অসীম মমতা। দীর্ঘদিন ধরে শিশু সোহানাকে আগলে রেখেছেন আম্বিয়া খাতুন। নিজে বয়স্ক, অসহায়, ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও সীমিত সামর্থ্যে তিনি শিশুটিকে লালন-পালন করে আসছেন। আম্বিয়া বেগমের মতো মানুষেরাই প্রমাণ করেন, মানবিকতার জন্য বিত্তবান হওয়ার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন একটি সংবেদনশীল হৃদয়ের।
তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতা সত্যিই অনুকরণীয়। জেলা প্রশাসক তাঁর এই অসাধারণ মানবিকতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

একটি শিশুর আপনজন তাকে ছেড়ে গেলেও, রাষ্ট্র তাকে ছেড়ে যেতে পারে না। সোহানার চিকিৎসা, নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।

আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি শিশুরই অধিকার আছে নিরাপদ আশ্রয়ে বেড়ে ওঠার, ভালোবাসা পাওয়ার এবং সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার। সোহানার জীবনেও সেই স্বপ্নের আলো জ্বলে উঠুক।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa