
নওগাঁর মান্দায় আইনজীবীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা, আদালতে মামলা
নওগাঁর মান্দায় এক আইনজীবীর পৈত্রিক বসতভিটা জবরদখল, গাছপালা কেটে ফেলা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী আইনজীবী নিজেই বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট মো. আলতাফ হোসাইন ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী। তিনি মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিলউথরাইল উত্তর-পূর্ব পাড়া গ্রামের মরহুম কাজেম আলী মণ্ডলের ছেলে। স্বপরিবারে তিনি ঢাকায় বসবাস করেন।
অভিযুক্তরা হলেন, একই এলাকার মৃত কাজেম আলী মণ্ডলের ছেলে মো. আলাউদ্দীন মণ্ডল পিরু, তার স্ত্রী এবং ছেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মো. মাশরেকুল আলম।
মামলার বিবরণী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আইনজীবী স্বপরিবারে ঢাকায় অবস্থান করায় গত বছরের ২৬ নভেম্বর ও তৎপরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী আলাউদ্দীন মণ্ডল পিরু ও তার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সহায়তায় আইনজীবীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন। এ সময় বসতভিটার ফলজ ও চারা গাছপালা কেটে অপসারণ ও চুরি করা হয়। পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক টিনের বেড়া নির্মাণ করে নিজেদের মালিকানা দাবি করে অপপ্রচার চালানো হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, উভয় বাড়ির পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে দিয়ে আইনজীবীর উঠানের মাঝখানে নতুন ড্রেন খনন করে বৃষ্টির পানি প্রবাহের সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া জবরদখলীয় সীমানায় জোরপূর্বক সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন করা হয়। আইনজীবী পরিবার গ্রামের বাড়িতে গেলে রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারার এবং অভিযুক্ত বিজিবি সদস্যের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র কারবারীদের ব্যবহার করে ভিটাছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়।
সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগী আইনজীবী স্থানীয় থানা-পুলিশ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে কোনো উপায় না পেয়ে গত ৯ ও ২১ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিএমএম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে,প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশনা ও প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
![]()









