- - -

তৌফিক এলাহী মিথ্যা মামলায় বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি!

Print News

তৌফিক এলাহী মিথ্যা মামলায় বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি!

 

মুজিবনগর সরকার দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী: মেহেরপুরের তৎকালীন প্রশাসক তৌফিক এলাহী মিথ্যা মামলায় বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি!

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (পরবর্তীতে মুজিবনগর) স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করেন। সেই স্মরণীয় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক আয়োজনের মূল কারিগর ছিলেন তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমা প্রশাসক (এসডিও) ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

দক্ষ, সাহসী ও কর্তব্যনিষ্ঠ সিএসপি অফিসার হিসেবে পরিচিত তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। স্বাধীনতার পর তাঁকে বীরবিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়।

কিন্তু আজ, যখন জাতি মুজিবনগর দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী পালন করছে, তখন এই দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা ৮১ বছর বয়সে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন কাটাচ্ছেন।

১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকেই তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি বাংলাদেশের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন। ২৬ মার্চ তিনি নিজের সরকারি সিল ও স্বাক্ষরসহ দুটি চিঠি লিখে ভারতে পাঠান—একটি নদিয়া জেলা প্রশাসককে এবং অন্যটি ভারতের জনগণের উদ্দেশ্যে। এর মাধ্যমে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য ও সমর্থন চেয়েছিলেন। এটিই ছিল পূর্বপাকিস্তানের কোনো সিভিল সার্ভিস অফিসারের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার জন্য ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা চাওয়ার প্রথম উদ্যোগ।

পরবর্তীতে ২৯ ও ৩০ মার্চ তিনি ভারতের সীমান্তে বিএসএফ ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন আলোচনা করেন। এই প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামকে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি মেজর এম এ ওসমান চৌধুরীর নির্দেশে ‘ক্যাপ্টেন’ পদে কমিশন লাভ করেন এবং দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গনে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেন।

মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও মাহবুব উদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তাঁরই তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

স্বাধীনতার পর তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০২ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।

কিন্তু ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁকে বনানীর বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন তাঁকে ১৯ জুলাই উত্তর বাড্ডায় এক বিক্ষোভের সময় সুমন সিকদার নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রায় দুই বছর ধরে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বিনা বিচারে কারাগারে আটক রয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রমের অবদান অনস্বীকার্য। মুজিবনগর দিবসের সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশের সচেতন নাগরিক ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি তাঁর দ্রুত মুক্তি ও সুস্থ বিচার প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছে।

স্বাধীনতার স্থপতিদের একজনের এমন পরিণতি জাতির জন্য বেদনাদায়ক। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকলে আশা করেন, এই বীর সন্তান শিগগিরই মুক্তি পাবেন এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতি পুনরায় সমুন্নত হবে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa