- - -

তোকে হেরোইন দিয়ে মামলা দেব’

Print News

“তোকে হেরোইন দিয়ে মামলা দেব”

বাপ্পী জানান, গত ৩ ৫ ও ৬ জুন পরপর দুইদিন এসআই বিলায়েত হোসেন তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে (০১৩১৯৪৮৭৯৬৮) কল দিয়ে থানায় ডেকে পাঠান। থানায় পৌঁছানোর পর তিনি আমাকে বলেন, ‘তোকে হেরোইন দিয়ে মামলা দেব।’ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গোপালগঞ্জের লোক। সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে থাকাকালে তোর মতো বহু মানুষকে জেলে ঢুকিয়েছি। মাদকের সাথে জড়িত না থাকলেও তোকে জড়িত বানিয়ে দিতে পারি।

একপর্যায়ে তিনি হবিরবাড়ী ইউনিয়নের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং এলাকার মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের ব্যবস্থা করতে বলেন। এতে সহযোগিতা করলে উভয়েরই লাভ হবে বলেও আশ্বাস দেন।

বাপ্পীর দাবি, তিনি এ ধরনের অবৈধ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এসআই বিলায়েত ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, ‘আমার কথা না শুনলে তোকে জেলে ভরে দেব, দিনের আলো দেখতে দেব না।’ এর কিছুদিন পরই ২৩ জুন ভালুকা থানায় হওয়া একটি মাদক মামলায় তাকে পলাতক আসামি করা হয়।
ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাসোহারা দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তারা হলেন- ভালুকা মডেল থানার এসআই মো: বিলায়েত হোসেন ও এসআই মেহেদী হাসান, তোফাজ্জল হোসেন, সালাউদ্দিন এবং আনোয়ার হোসেন।

ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজির কাছে এই অভিযোগে দুই পাতার লিখিত আবেদন করেছেন হবিরবাড়ী এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো: বাপ্পী আহমেদ। অভিযোগপত্রে দাবি করেছেন, তাকে হোয়াটসঅ্যাপে থানায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেয়াসহ মাদক কারবারিদের কাছ থেকে মাসিক টাকা তোলার ব্যবস্থা করতে চাপ দেয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে একটি মাদক মামলায় তাকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত এসআইয়ের বক্তব্য: অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই মো: বিলায়েত হোসেন বলেন, বাপ্পীর নামে কোনো মামলা নেই। তবে যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বলেছে বাপ্পী তার সাথে ছিল। এ ছাড়া বাপ্পী বিভিন্ন লোক নিয়ে আমার সাথে কথা বলায় এবং কথোপকথন ভিডিও করে রাখে। ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নামে কোথাও কোনো অভিযোগ নেই।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এটা অনেক পুরনো বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তাই এ বিষয়ে বক্তব্য দেয়া সম্ভব নয়। আর জেলা পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

Loading

Facebook
Twitter
LinkedIn
Su Mo Tu We Th Fr Sa